জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার ২ দিন ব্যাপী বার্ষিক মাহফিল, জামি‘আতুল আবরার মসজিদ প্রাঙ্গন বসিলাতে অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০শে নভেম্বর, ২০১৯ শনিবার এবং ১লা ডিসেম্বর, ২০১৯ রবিবার

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা এর লিখিত সকল কিতাব পাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ ঈসায়ী।

জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে প্রকাশিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার পেতে ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি এবং থেকে সংগ্রহ করুন।

www.darsemansoor.org এখন www.darsemansoor.comপরিবর্তিত হয়েছে।

হযরতওয়ালা দা.বা. কর্তৃক সংকলিত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা শাইখুল হাদীস মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর বয়ান এবং সমস্ত কিতাব, প্রবন্ধ, মালফুযাত একসাথে ১টি অ্যাপে পেতে ইসলামী যিন্দেগী অ্যাপটি আপনার মোবাইলে ইন্সটল করুন। Play Storeএবং  App Store

কোয়ান্টাম মেথড ঈমান বিধ্বংসী মতবাদ

আল্লাহকে পাওয়ার জন্য, আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করার জন্য মুরাকাবা বা ধ্যান ইসলামে একটি স্বীকৃত বিষয়। অন্য ধর্মের ধর্মগুরুরাও নিজ আত্মার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ধ্যান করে থাকে। হিন্দুদের যোগধ্যান ও বৌদ্ধদের বিপাসনধ্যান এর অন্যতম। তবে ইসলামের মুরাকাবা বা ধ্যান এবং অন্য ধর্মের পন্ডিতদের ধ্যানের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। কারণ ইসলামের মুরাকাবার উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভ করা, আর হিন্দু যোগী বা বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের ধ্যানের উদ্দেশ্য হলো, আত্মার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুনিয়াবী কিছু ফায়দা হাসিল করা।

পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা মুরাকাবার মৌলিক বিষয়গুলোর উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখতে পেলেন যে, ধ্যানের মাধ্যমে অন্তরে যে বিষয় গেঁথে দেওয়া হয়, সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্তরের বিশ্বাস অনুযায়ী সে বিষয়ে সাড়া দেয়। তারা ৬০/৭০ দশকে ধ্যানের উপর ব্যাপকভাবে গবেষণা করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, মানসিক ও শারীরিক উভয় রোগের নিরাময়ে ধ্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এই প্রকারের ধ্যানকে তারা ‘মেডিটেশন’ বলে আখ্যায়িত করেন। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই রোগ নিরাময়ের জন্য মেডিটেশন করার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের কোয়ান্টাম মেথড ব্যতিক্রমধর্মী মেডিটেশনের কথা বলছে। মেডিটেশনের উৎপত্তি হয়েছিল মানসিক ও শারীরিক রোগ মুক্তির লক্ষে অথচ কোয়ান্টাম মেথড রোগ নিরাময়ের গন্ডি থেকে বেরিয়ে জীবনের সর্বক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। রোগ নিরাময়ের বিশ্বাসের স্থানে তারা মুক্ত বিশ্বাস নামে বিভিন্ন ধরণের কুফরী আকীদার প্রচার শুরু করেছে।

কোয়ান্টাম মেথডের প্রধান গুরুজী শহীদ আল বোখারী মহাজাতক প্রথমে জ্যোতিষী ছিলেন। তিনিই কোয়ান্টাম মেথডের ব্যতিক্রমধর্মী মেডিটেশনের উদ্ভাবক। তিনি মূলত এ জাতীয় মেডিটেশনের মূল আবিষ্কারক ডা. বেনসন বা ডা. ডীন অরশীন এর বাতলানো ফর্মুলা থেকে সূত্র গ্রহণ করে নিজের গবেষণালব্ধ জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন দর্শন যোগ করে কোয়ান্টাম এর এই বিশেষ মেডিটেশন আবিষ্কার করেন।

তার আবিষ্কৃত এই নতুন ধরণের মেডিটেশনের প্রতি সব ধর্মের মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষত হিন্দু ও বৌদ্ধদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন রীতি-নীতি, ও আকীদা বিশ্বাসের মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। তাই কোয়ান্টাম মেথড পশ্চিমা দেশে প্রচলিত মেডিটেশন নয়। বরং এটি একটি জীবন ব্যবস্থা ও মতবাদ, যেখানে বিজ্ঞান ও সব ধর্মের মিশ্রণে জীবনের সর্বক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, ঠিক যেমনটি করেছিল বাদশা আকবার ভ্রান্ত দ্বীনে ইলাহী আবিষ্কার করে।

শহীদ বোখারীর এই প্রচেষ্টা শুরু হয় প্রায় তিন যুগ আগে ১৯৭৩ সালে তদানীন্তন ‘মাসিক ঢাকা ডাইজেস্ট’ পত্রিকায় অতন্দ্রীয় বিষয়ে লেখালেখির মাধ্যমে। ১৯৭৫ সালে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রায়’ এ বিষয়ে অনেকগুলো লেখা প্রকাশ করা হয়। ১৯৮০ সালে তারা ঢাকার শান্তি নগরে অফিস খোলে। ১৯৮৩ সালে এই মেডিটেশনকে ব্যাপকভাবে মানুষের মধ্যে ছড়ানোর জন্য ‘যোগ্য মেডিটেশন কেন্দ্র’ স্থাপন করা হয়। ১৯৮৬ সালে এই কেন্দ্র ‘যোগ্য ফাউন্ডেশন’ নামে পরিচালিত হয়।

এদিকে মহাজাতক মানুষের মধ্যে পরিচিতির জন্য এই মেডিটেশন সম্পর্কে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে লিখতে থাকেন। এভাবে লেখালেখির এক পর্যায়ে যখন তিনি গণমানুষের মধ্যে এ ব্যাপারে আগ্রহ লক্ষ করলেন তখন মেডিটেশন কোর্স চালু করা হয়। ১৯৯৩ এর ৭ জানুয়ারী মেডিটেশন এর সর্বপ্রথম কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে কোয়ান্টাম মেথড নামে এরা মেডিটেশন কোর্স চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তারা ৩০০ এর অধিক কোর্স সমাপ্ত করেছে। মানুষ তার কাছে যায় রোগ নিরাময়ের আশায়, কিন্তু তিনি নিরাময়ের নামে তাদের বাদশাহ আকবরের দ্বীনে ইলাহীর মতো সর্বধর্মের সমন্নয়ে গঠিত নতুন এক মতবাদ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, আর অবুঝ মুসলমানদের ঈমান হরণ করছেন। (তথ্যসূত্র, মাসিক আল-আবরার ফেব্রুয়ারী ২০১২)

আমাদের দেশের মুসলমানরা ধর্ম সম্পর্কে যতটা আবেগী ততটা জ্ঞানী নয়। ধর্ম সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানও রাখে না এই ধরণের মুসলমানের সংখ্যাও কম নয়। মুসলমানদের ধর্মীয় জ্ঞানের দৈন্যতাকে পুঁজি করে যুগে যুগে অনেকেই মুসলমানদের ঈমান-আকীদা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। বর্তমান কোয়ান্টাম মেথড সেই একই পথ অবলম্বন করে খুব কৌশলে মুসলমানদের ঈমান-আকীদা ধ্বংস করে যাচ্ছে। নিম্নে আমরা কোয়ান্টাম এর এমন কিছু মতবাদ তুলে ধরছি, যা বিশ্বাস করলে মুসলমানদের ঈমানই নষ্ট হয়ে যাবে।

১. ইসলাম কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো কিছু আকীদা-বিশ্বাস ও আমলের। তবে কেউ যদি ঈমান-আকীদা ঠিক রাখে আর আমল নাও করে, তবু সে একদিন না একদিন জান্নাতে যাবে। কিন্তু ঈমান-আকীদার মধ্যে যদি গলদ থাকে, তাহলে সারা জীবন নেক আমল করলেও জান্নাতে যাওয়া যাবে না। কোয়ান্টাম মেথড মুসলমানদের অমূল্যধন ঈমান  ধ্বংস করার পায়তারা চালাচ্ছে। কোয়ান্টাম মেথডের কোর্সে ভর্তির পর সর্ব প্রথম একটি প্রত্যয়ন পাঠ করা হয়, এই প্রত্যয়নই তাদের মূল চালিকা শক্তি। প্রত্যয়নটি এই, ‘ অসীম শক্তির অধিকারী আমার মন, যা চাই তাই পাবো যা খুশি তাই নেব’ তাদের এই প্রত্যয়নটি সম্পূর্ণরূপে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী। কেননা কুরআনের অনেক আয়াত আর অনেক হাদীস দ্বারা একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই অসীম শক্তির অধিকারী। তিনি ছাড়া আসমান-যমীনে যা কিছু আছে সবকিছুর শক্তিই সসীম। অতএব মানুষের মনকে অসীম শক্তির অধিকারী বলা স্পষ্ট কুফরী কথা। তাছাড়া ‘যা চাই তাই পাবো’ এই বিশ্বাসে আল্লাহর উপর ভরসার হুকুম স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। কুরআন শরীফে আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদেরকে যেকোনো কাজে আল্লাহর উপর ভরসা করতে বলেছেন। যেমনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘অতঃপর আপনি যখন কোনো কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহর উপর ভরসা করুন। আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন। (সূরা আল ইমরানঃ১৫৯, আরো দ্রষ্টব্য, সূরা তাওবাঃ৫১, সূরা তাগাবুনঃ১৩, সূরা ইউসুফঃ৬৭, সূরা আল ফুরকানঃ৫৮ ইত্যাদি) অথচ কোয়ান্টামের এই কথা ‘যা চাই তাই পাবো’ এর মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার উপর ভরসাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। হ্যাঁ তারা যদি কথাটা এভাবে বলতো, ‘যা চাই তাই পাবো যদি আল্লাহ চান’ তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না।

২. ‘যা চাই তাই পাবো’ এখন প্রশ্ন হলো দিবে কে? এই প্রশ্নের জবাব কোয়ান্টাম কণিকা ২৩৯ পৃ. দেওয়া হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, ‘কোয়ান্টামের মতে আল্লাহ/গড/ ভগবান/ প্রকৃতি যে কেউ দাতা হতে পারে।’ অথচ কুরআন সুন্নাহর আলোকে প্রকৃত দাতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। গড/প্রকৃতি/ভগবান এসবকে দাতা মানার অর্থই হলো আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্যকে শরীক করা। আর শিরক দ্বারা ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। অতএব কোয়ান্টামের এই মতবাদ সম্পূর্ণ ঈমান বিধ্বংসী মতবাদ।

তাছাড়া ‘যা চাই তাই পাবো’ একথা সম্পূর্ণ বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ চাওয়ার সাথে পাওয়ার শতভাগ সংযোগ হবে জান্নাতে। এই পৃথিবীতে শতভাগ চাওয়া পাওয়ায় পরিণত হওয়া সম্ভব নয়। তাইতো আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বলেছেন ‘মানুষ যা চায় তাই কি পায়?’ (সূরা আন নাজাম ২৪) যদি পৃথিবীতেই মানুষের শতভাগ চাওয়া পাওয়ায় রূপান্তরিত হতো, তাহলে তো পৃথিবীই জান্নাত হয়ে যেতো। মানুষের শতভাগ চাওয়া তথা আশা-আকাঙ্ক্ষা শুধুমাত্র জান্নাতেই পুরা করা হবে, এ মর্মে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তোমরা সেখানে যা চাবে তাই পাবে’ (সূরা হামীম সেজদাঃ৩১)

৩. কোয়ান্টামের মতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইসলাম মোটকথা সব ধর্মের মৌলিক শিক্ষাই এক। কাজেই যেকোনো ধর্ম পালনই যথেষ্ট। কোয়ান্টামের মতে সকল ধর্মই গ্রহণযোগ্য। (কোয়ান্টাম উচ্ছ্বাস পৃ.৯)

ইসলামে পূর্বের সকল নবী-রাসূল ও আসমানী গ্রন্থসমূহকে স্বীকৃতী প্রদান করা হয়েছে। এই স্বীকৃতীর অর্থ এই নয় যে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পরও যদি কেউ নিজ ধর্ম অনুযায়ী আমল করে, তাহলে সে মুক্তি পেয়ে যাবে। বরং এই স্বীকৃতী অর্থ এই যে, পূর্বের নবী-রাসূলগণ বাস্তবেই সত্য নবী-রাসূল ছিলেন এবং তাদের যমানায় তাদের কিতাবও সত্য ছিল। কিন্তু কুরআন অবতীর্ণ হওয়ায় পূর্বের সমস্ত আসমানী কিতাব রহিত হয়ে গেছে। তাইতো আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট ভাষায় কুরআনে বলে দিয়েছেন ‘যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম পালন করবে কস্মিনকালেও তা তার থেকে গ্রহণ করা হবে না, আর আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা আল ইমরানঃ৮৫)

যেখানে কুরআনে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হলো, ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম পরকালীন মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়, সেখানে কোয়ান্টাম মেথড কীভাবে অন্য ধর্মকেও গ্রহণযোগ্যতার সনদ দিতে পারে? কোয়ান্টামের কী অধিকার আছে যে সে অন্য ধর্মকে গ্রহণযোগ্যতার সনদ দিবে? একই সময়ে একাধিক ধর্মকে গ্রহণযোগ্য বলা যুক্তি বিরুদ্ধ কথাও বটে। কেননা ধর্ম হলো মানুষের জীবনযাপনের আসমানী সংবিধান। একই দেশে একই সময়ে একাধিক সংবিধান যেমন কার্যকর নয়, তেমনিভাবে আল্লাহর এই পৃথিবীতে একই সময়ে একাধিক ধর্ম বা সংবিধান কার্যকর হওয়া বা গ্রহণযোগ্য হওয়া সম্ভব নয়। ইসলাম যেহেতু সর্বশেষ আসমানী সংবিধান তথা আল কুরআন নিয়ে এসেছে, তাই কুরআন নাযিল হওয়ার পর অন্যসব সংবিধান তথা ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থ রহিত ও অগ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে। এটাই হলো যুক্তির দাবি।

কোয়ান্টাম মেথড অন্য ধর্মকে গ্রহণযোগ্য বলে নিজের ঈমান যেমন ধ্বংস করেছে, তেমনিভাবে অন্য মুসলমানদেরকে এই মতবাদে দীক্ষিত করে অন্যদের ঈমানও নষ্ট করে যাচ্ছে।

৪. কোয়ান্টামের উদ্ভাবিত জীবনদৃষ্টির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘কোয়ান্টাম হচ্ছে সেই সায়েন্স অব লিভিং যা বলে দেয় জীবনটাকে কীভাবে সুন্দর করা যায়। ভুল থেকে কীভাবে দূরে থাকা যায়। পাপ কত কম করা যায়। ভাল বা কল্যাণ কত বেশি করা যায়। কোয়ান্টামের শিক্ষা এ ক্ষেত্রে নবী-রাসূলদের যে শিক্ষা, ওলী-বুযুর্গদের যে শিক্ষা, মুনি-ঋষিদের যে শিক্ষা, তা থেকে আলাদা কিছু নয়। হাজার বছর ধরে তারা যে শিক্ষা দিয়ে এসেছেন, কোয়ান্টাম সে কথাগুলোই বলছে। শুধু ভাষাটা আধুনিক। (হাজারো প্রশ্নের জবাব, মহাজাতক ১/৩০১)

এখানে স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করা হলো যে, কোয়ান্টামের শিক্ষা হলো, নবী-রাসূলদের তাওহীদী বাণী ও মুনি-ঋষিদের কুফরী মতবাদের সমন্বিত একটি রূপ। অতএব সাবধান হে মুসলিম ভাই! কোয়ান্টামে দীক্ষা লাভ করে নিজের ঈমান খোয়াবেন না।

নবীজী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনিত জীবন ব্যবস্থার উপর সন্তুষ্ট হতে না পারা কোয়ান্টামের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। নিজের বুদ্ধিমতে সকল ধর্মের নির্যাস আর বিজ্ঞানের থিউরি মিশ্রণে সফলতার সূত্র আবিষ্কার সবচেয়ে বড় ভুল। মুমিন-মুসলমান হতে হলে সর্বাবস্থায় কুরআন সুন্নাহর মাঝে নিজের সকল সমস্যার সমাধান, সকল প্রশ্নের উত্তর আর সকল চাহিদা পূরণের দিকনির্দেশনা খুঁজে পাওয়ার বিশ্বাস রাখতে হবে। কুরআন-সুন্নাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থায় তুষ্ট থাকতে হবে এবং মনে-প্রাণে তার পূর্ণাঙ্গ অনুসরণে নিজেকে সঁপে দিতে হবে।  বিধাতা হিসেবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার উপর আস্থাশীল হতে হবে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শকে একমাত্র পালনীয় বিশ্বাস করতে হবে। কোয়ান্টামের আবিষ্কৃত জীবন-যাপনের বিজ্ঞানের অনুসরণ করা যাবে না। যার ভিত্তি রাখা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত জীবনের সংজ্ঞা আর রুশ দার্শনিক লিওটলস্টয় এর কিছু মন্তব্যের উপর। মুসলমানদেরকে ইয়াহুদী-খ্রিষ্টান বা তাদের স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী  জীবন যাপনের বিজ্ঞান পালন করতে হবে কেন? মুসলমানদের জন্য ইসলামের বিধি-বিধান ও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শই কি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থারূপে যথেষ্ট নয়। যারা ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা মানবে না, তারা কুরআনের স্পষ্ট আয়াত ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম পরিপূর্ণ করে দিলাম। (সূরা মায়িদাঃ৩) অস্বীকার করায় কাফের হয়ে যাবে।

কোয়ান্টাম মেথড নতুন জীবনদৃষ্টির কথা বলে মূলতঃ ইসলামের পূর্ণাঙ্গতা অস্বীকার করছে। তাই যারা না বুঝে ইতিমধ্যে কোয়ান্টামে ঢুকে পড়েছেন অথবা যারা এখন ঢুকতে চাচ্ছেন তারা এখনই সর্তক হোন, তাওবা করে সঠিক ইসলামের পথে ফিরে আসুন এবং পূর্ণাঙ্গরূপে ইসলাম ধর্ম মেনে চলুন। চৌদ্দশত বছর আগেই আল্লাহ তা‘আলা আপনার সব সমস্যার সমাধান কুরআন ও সুন্নাহর মাঝে দিয়ে রেখেছেন। অতএব অন্য কোনো দিকে না যেয়ে আপনার ধর্ম ইসলামকে আঁকড়ে ধরুন। যারা পূর্ণাঙ্গরূপে ইসলাম ধর্ম মেনে চলবে তাদের জন্য আখিরাতে চির শান্তির জীবন তো অপেক্ষা করছেই, দুনিয়াতেও আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য প্রশান্তিময় জীবনের ওয়াদা করেছেন। তাই আসুন আমরা কোয়ান্টামসহ অন্যান্য সব বাতিলকে পরিত্যাগ করি এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামকে চর্চা করি।  আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

বি. দ্র. কোয়ান্টাম মেথডের আরো অনেক মতবাদ কুরআন-হাদীস সাংঘর্ষিক। পারচার সংক্ষিপ্ত পরিসরে এর চেয়ে বেশি আলোচনা সমীচীন নয়। তাই যারা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহী তারা ব্রাউজ করুনঃ

  1. http//:monthlyalabrar.com
  2. http//:monthlyalabrar.wordpress.com