ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ ঈসায়ী।

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরুত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেড়িয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

হযরতওয়ালা দা.বা. এর কিতাব অনলাইনের মাধ্যমে কিনতে চাইলে ভিজিট করুনঃ www.maktabatunnoor.com

জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে প্রকাশিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার পেতে ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি এবং থেকে সংগ্রহ করুন।

www.darsemansoor.org এখন www.darsemansoor.comপরিবর্তিত হয়েছে।

হযরতওয়ালা দা.বা. কর্তৃক সংকলিত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা শাইখুল হাদীস মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর বয়ান এবং সমস্ত কিতাব, প্রবন্ধ, মালফুযাত একসাথে ১টি অ্যাপে পেতে ইসলামী যিন্দেগী অ্যাপটি আপনার মোবাইলে ইন্সটল করুন। Play Storeএবং  App Store

নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির তৈরী নাকি নূরের তৈরী?

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ইসলামের কোন বিধান পালনে শিথিলতার যেমন কোন অবকাশ নেই, তেমনি কোন বিষয়ে বাড়াবাড়িরও কোন সুযোগ নেই। প্রতিটি বিষয়ে রয়েছে ইসলামের সঠিক এবং সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা। সেই দিক-নির্দেশনা মেনে শরী‘আত অনুযায়ী আমল করা অপরিহার্য। আর আমল যেমন সঠিকভাবে সুন্নাত তরীকায় করতে হবে, তেমনি সঠিক আক্বীদা-বিশ্বাস পোষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর জরূরী কর্তব্য। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিভিন্ন বিষয়াদি সম্পর্কেও রয়েছে কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বর্ণনা।

আল্লাহ তা‘আলা বহু সংখ্যক মাখলূক সৃষ্টি করেছেন। তার মধ্যে তিন শ্রেণীর মাখলূক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মধ্যে প্রথম হলো মাটির মানুষ, যার সম্মান বোঝানোর জন্য ফিরিস্তা, জিন ও ঐ সময়ের সকল মাখলূককে হযরত আদম ‘আলাইহিস সালাম-কে সিজদা করতে বলা হয়েছিলো। দ্বিতীয়: নূরের তৈরী ফিরিস্তা। তৃতীয়: আগুনের তৈরী জিন জাতি।

নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিসের তৈরী, সে বিষয়েও কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদা-বিশ্বাস এই যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম শ্রেণীর মাখলূক, তথা-মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন। তিনি নূরের তৈরী বা আগুনের তৈরী ছিলেন না। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টিগতভাবে সকল মানুষের মতই মানুষ ছিলেন। আর লক্ষাধিক নবী-রাসূলসহ সকল মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা মাটির উপাদান থেকে সৃষ্টি করেছেন। তবে তিনি মানবিকতা এবং নীতি-নৈতিকতায় নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলের চেয়ে অনেক উর্ধ্বে ছিলেন। তাঁর উন্নত চরিত্র ও উত্তম আদর্শের ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ  ﴿ وَاِنَّكَ لَعَلٰى خُلُقٍ عَظِيمٍ ﴾ [سورة القلم: 4]

অর্থ: নিশ্চয় আপনি চরিত্রের উচ্চতম স্তরে আছেন। (সূরা কালাম: ৪)

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেনঃ

﴿لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِىْ رَسُولِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ يَرْجُو اللهَ وَ الْيَوْمَ الْآخِرَ وَ ذَكَرَ اللهَ كَثِيرًا (21)﴾  [سورة الأحزاب: 21]

অর্থ: অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাঝে রয়েছে উত্তম আদর্শ তোমাদের জন্য, অর্থাৎ যারা আল্লাহ তা‘আলা ও শেষ দিবস হতে ভয় রাখে এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করে। (সূরা আহযাব: ২১)

কুরআন-সুন্নাহর যে সকল জায়গায় ‘নূর’ শব্দ ব্যবহার করে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বোঝানো হয়েছে, সবখানে এই অর্থই উদ্দেশ্য যে, তিনি ছিলেন মানব এবং জিন জাতির জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা। সেখানে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সৃষ্টিগত অবস্থা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য নয়। কারণ তাঁকে নূরের তৈরী বিশ্বাস করলে তাঁকে প্রথম শ্রেণীর মাখলূক থেকে নামিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর মাখলূক সাব্যস্ত করা হয়, যা নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে স্পষ্ট বে-আদবী। কারণ তাঁকে নীচে নামিয়ে দেওয়া হলো। মাটির তৈরী হলে নীচে নামানো হয়-এ কথা সহীহ নয়; বরং এটা ইবলিস শয়তানের বিশ্বাস। এ কারণেই সে মাটির তৈরী হযরত আদম ‘আলাইহিস সালাম-কে সিজদা করতে রাজি হয় নি।

যারা বলে যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরী ছিলেন, তারা কুরআনে কারীমের এই আয়াত দিয়ে প্রমাণ পেশ করার চেষ্টা করে-

﴿قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ﴾ [سورة المائدة: 15]

অর্থ: অবশ্যই তোমাদের কাছে এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর এবং সুস্পষ্ট কিতাব। (সূরা মায়িদা: ১৫)

তাদের দাবী হলো- উল্লেখিত আয়াতে ‘নূর’ শব্দ দ্বারা নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বোঝানো হয়েছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি নূরের তৈরী না হতেন, তাহলে ‘নূর’ শব্দ দিয়ে তাঁকে বোঝানোর কেন ব্যক্ত করা হলো?

তাদের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ এ আয়াতে ‘নূর’ ও ‘কিতাব’ দ্বারা একই বিষয় বোঝানো হয়েছে(১)। এখানে নূরের ব্যাখ্যা হিসাবে ‘কিতাব’ শব্দটি আনা হয়েছে। তার প্রমাণ হলো পরবর্তী আয়াত-

{يَهْدِي بِهِ اللهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْـوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ} [سورة المائدة: 16]

এখানে একবচন ব্যবহার করা হয়েছে । যদি ‘নূর’ দ্বারা ‘নবী’ উদ্দেশ্য হতো, তাহলে দ্বিবচন ব্যবহার করা হতো এবং বলা হতো يهدي بهما অর্থাৎ এ উভয়ের দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা বান্দাকে হিদায়াত দান করেন।

এরপরেও যদি কোন মুফাসসির ‘নূর’ দ্বারা ‘নবী’কে উদ্দেশ্য করেন, সে ক্ষেত্রে আয়াতে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ‘নূর’ বলার কারণ এই নয় যে, তিনি নূরের তৈরী ছিলেন।

বরং তাঁকে এই অর্থে ‘নূর’ বলা হয়েছে যে, তিনি হিদায়াত ও মা‘রিফাতের নূরে নূরান্বিত। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দ্বারা মানব ও জিন জাতিকে হিদায়াতের পথ দেখিয়েছেন এবং তাদেরকে শিরক-কুফুরীর অন্ধকার থেকে বের করে ঈমানের নূর দান করেছেন(২ )।

নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে, মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন, তা কুরআনে কারীমে যেমন বলা হয়েছে, তেমনি নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও তা উম্মতকে বলে গেছেন। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

  ﴿قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَىٰ إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ ﴾ [سورة الكهف:110، و سـورة فصلت:6]

অর্থ: (হে নবী!) আপনি বলুন, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। (তবে পার্থক্য হলো,) আমার প্রতি এই মর্মে ওহী অবতীর্ণ হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবলই একজন। (সূরা কাহ্ফ: ১১০, সূরা হা-মীম আস-সাজদাহ: ৬)

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:

﴿قُلْ سُبْحَانَ رَبِّيْ هَلْ كُنْتُ اِلَّا بَشَـرًا رَّسُـولًا﴾ [سورة الإسراء: 93]

অর্থ: (হে নবী!) আপনি বলুন, আমার রব (আল্লাহ) পবিত্র মহান। আমি একজন মানব রাসূল বৈ কে। (সূরা বানী ইসরাঈল: ৯৩)

﴿وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِنْ مِتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ﴾ [سورة الأنبياء: 34]

অর্থ: আপনার পূর্বেও কোন মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করি নি। সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে? (সূরা আম্বিয়া: ৩৪)

সহীহ বুখারীর হাদীস। আলক্বামা (রহ:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) বলেন: একবার নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামাযে ভুল হয়ে গেল। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নামাযে কি নতুন কোন বিষয় ঘটেছে? নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: কী হয়েছে? সাহাবায়ে কিরাম বললেন: আপনি এভাবে এভাবে নামায পড়লেন! তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম পা মুড়িয়ে ক্বিবলামুখী হলেন এবং দুই সিজদা দিলেন। তারপর সালাম ফেরালেন। অতপর যখন আমাদের দিকে মুখ করে বসলেন, তখন বললেন:

قال: «إنه لو حدث في الصلاة شيء لنبأتكم به، ولكن إنما أنا بشر مثلكم، أنسى كما تنسون،

فإذا نسيت فذكروني…..». (رواه البخاري، رقم الحديث: 401. و رواه مسلم، رقم

الحديث: 572)

যদি নামাযে কোন নতুন বিষয় ঘটে, তাহলে আমি তোমাদেরকে সে বিষয়ে অবহিত করবো। কিন্তু আমি তো তোমাদেরই মতই মানুষ। তোমরা যেমন ভুলে যাও, আমিও ভুলে যাই। সুতরাং আমি যদি (কোন কিছু) ভুলে যাই, তাহলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিও।….. (সহীহ বুখারী, হাদীস নংঃ ৪০১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নংঃ ৫৭২)

সহীহ মুসলিমের হাদীসে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

عن أبي هريرة يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اللهم إنما محمد بشر، يغضب كما يغضب البشر …..». (رواه مسلم، رقم الحديث: 2601)

অর্থ: আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: “হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ তো শুধু একজন মানুষ। সে ক্রুদ্ধ হয়, যেমন মানুষ ক্রুদ্ধ হয়…..।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নংঃ ২৬০১)

উপরোক্ত আয়াত এবং হাদীসসূমহে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ‘বাশার’ বলা হয়েছে। আর ‘বাশার’ শব্দের অর্থ হলোঃ রক্ত-গোশতে তৈরী সাধারণ মানুষ। তথাপি কুরআনে এবং নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিজ বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তিনি আমাদের মতই মানুষ। তবে তাঁর কাছে ওহী আসে, আর আমাদের কাছে ওহী আসে না। আর এটা নিশ্চিত এবং সকলেরই জানা বিষয় যে, মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। কাজেই আয়াত এবং সহীহ হাদীসের সুস্পষ্ট বর্ণনা দ্বারা প্রমাণ হয়ে গেলো যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন। নূরের তৈরী ছিলেন না। আয়াত এবং হাদীসের যেখানেই তাঁকে ‘নূর’ বলা হয়েছে, সেখানে তাঁকে রূপক অর্থে ‘নূর’ বলা হয়েছে, যেহেতু তিনি ছিলেন উম্মতের জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে সঠিক আক্বীদা পোষণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

[১. দ্রষ্টব্য- * তাফসীরে বাইযাবী: ২/১২০ * তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৩/৬৮ * তাফসীরে যামাখশারী: ১/৬১৭ * তাফসীর ফী যিলালিল কুরআন: ২/৮৬২ * সাফওয়াতুত্ তাফাসীর: ১/৩০৮ * আত্তাফসীরুল কুরআনী লিল-কুরআন: ৩/১০৬০ * তাফসীরে রূহুল বায়ান: ২/৩৬৯ (সূরা মায়িদা)।]
[২. দ্রষ্টব্য- * তাফসীরে ত্ববারী: ১০/১৪৩ * তাফসীরুল খাযিন: ২/২৪ * তাফসীরে রাযী: ১১/৩২৭ * তাফসীরে রূহুল বায়ান: ২/৩৬৯ (সূরা মায়িদা)।]