হযরতের সৌদি আরবের নাম্বার- 05 77 58 56 34

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ শে আগষ্ট, ২০১৯ ঈসায়ী।

হাজী সাহেবানদের জন্য এক নজরে হজের ৭ দিনের করণীয় ডাউনলোড করুন

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরুত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেড়িয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে প্রকাশিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার পেতে ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি এবং থেকে সংগ্রহ করুন।

www.darsemansoor.org এখন www.darsemansoor.comপরিবর্তিত হয়েছে।

হযরতওয়ালা দা.বা. কর্তৃক সংকলিত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা শাইখুল হাদীস মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর বয়ান এবং সমস্ত কিতাব, প্রবন্ধ, মালফুযাত একসাথে ১টি অ্যাপে পেতে ইসলামী যিন্দেগী অ্যাপটি আপনার মোবাইলে ইন্সটল করুন। Play Storeএবং  App Store

মসজিদের মাসাইল

ভূমিকা: আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: আল্লাহ তা‘আলার (ঘর) মসজিদ আবাদ তারাই করবে, যারা আল্লাহ তা‘আলা ও পরকালের উপর ঈমান আনে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কাউকেই ভয় করে না। তাদের ব্যাপারে আশা করা যায়, এরা হেদায়াত প্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরায়ে তাওবা আয়াত নং ১৮)

মসজিদ হল হেদায়াতের মারকায বা কেন্দ্র। কোন মসজিদ সুন্নাত অনুযায়ী পরিচালিত হলে সে মহল্লায় অবশ্যই সুন্নাত ও দীন প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্য মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক রহ. বলতেন যে তোমরা মসজিদ ও মাদরাসাকে সুন্নী বানাও তাহলে পুরা মহল্লা সুন্নী হয়ে যাবে। সুতরাং মসজিদ সুন্নী বানানোর জন্য যা করণীয় সংক্ষেপে তা নিম্নে পেশ করা হল।

১. মসজিদ শুরুর সীমানা নির্ধারণ করে দিবে, যাতে নতুন লোকেরাও সঠিক স্থান থেকে মসজিদে ঢোকার ও বের হওয়ার দু‘আ পড়তে সক্ষম হয়। অনেক মসজিদে এ ব্যাপারে পেরেশানী উঠাতে হয়। বারান্দা মসজিদে শামিল কিনা বুঝা যায় না। সুতরাং কোন খাম্বা ইত্যাদিতে লিখে রাখতে হবে যে, “মসজিদ এখান থেকে শুরু।” (ইবনে মাজা হাদীস নং ৭৭৩)

২. মসজিদের গেইটে মসজিদে ঢোকার দু‘আ লিখতে চাইলে পূর্ণ তিনটা বা ইস্তিগফারসহ চারটা লিখবে। অনুরূপভাবে বের হওয়ার সময়ে সবগুলো দু‘আ লিখবে। বর্তমানে প্রায় মসজিদে ঢোকা ও বের হওয়ার একটা করে দু‘আ লিখা হয়। এরূপ করা ঠিক নয়। এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। লোকেরা মনে করে মাত্র এটুকুই মসজিদে ঢোকার ও বের হওয়ার দু‘আ। (ইবনে মাজা হাদীস নং ৭৭১, তিরমিযী হাদীস নং ৩১৪)

৩. মসজিদের উযূ খানা এমনভাবে নির্মাণ করবে যাতে পানি অপচয় না হয়, নতুবা এর গুনাহ প্রত্যেক মুসল্লী পৃথক ভাবে পাবে। আর মসজিদ কর্তৃপক্ষের উপর গুনাহের সমষ্টি বর্তাবে। (সূরায়ে বনী ইসরাঈল আয়াত নং ২৭)

এ উযূ দ্বারা নামায জায়িয হলেও অপচয়ের কারণে তা হারাম উযূতে পরিণত হয়। সুতরাং মসজিদের হাউজ থাকা ভাল। আর যদি টেপ সিস্টেম হয় তাহলে হয়ত তার সাথে বদনা রাখবে অথবা এমন টেপ লাগাবে যেখানে হাত সরানোর সাথে সাথে পানি বন্ধ হয়ে যায় । অথবা লিখিত ভাবে এবং মৌখিকভাবে মুসল্লীদের বার বার বুঝাতে থাকবে যাতে তারা উযূ করার সময় টেপ প্রয়োজন মত বার বার খুলবে এবং বার বার বন্ধ করবে। একবার খুলে উযূ সম্পন্ন করতে চেষ্টা করবে না। তাহলে আশা করা যায় পানির অপচয় বন্ধ হবে। (সূরা মায়িদা: ২, তিরমিযী: হা: নং ২৬৭৫)

৪. মসজিদের মুসল্লীদের খেদমত ও আরামের জন্য প্রত্যেক মসজিদের নিজস্ব পেশাবখানা ও পায়খানা থাকা জরুরী। মসজিদ কমিটির জন্য এর ব্যবস্থা করা একান্ত জরুরী। এবং এগুলো সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবে এবং রাখার জন্য কোন খাদেম নিয়োগ দিবে। পেশাবখানা দিয়ে উযূ খানার পানি প্রবাহিত করার ব্যবস্থা করতে চেষ্টা করবে। যাতে এগুলো থেকে কোন দুর্গন্ধ না ছড়ায়। এর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। (সূরায়ে তাওবা আয়াত নং ১০৮)

অনেক মসজিদে তো এগুলোর কোন ব্যবস্থাই করা হয় না যা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে, আবার অনেক এলাকায় মসজিদের নিকটবর্তী স্থানে এগুলো তৈরী করা হয় এবং সাফাইয়ের উত্তম ব্যবস্থা করা হয় না, এমনকি যারা জরুরত পুরা করতে সেখানে যায় তারা নাপাক হয়ে ফিরে আসে এবং এগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছাড়ায়। এমনকি মসজিদ থেকেও দুর্গন্ধ অনুভব করা যায়। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাঁচা পিয়াজ খেয়ে মসজিদে আসতে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী হা: নং ১৮০৬)

৫. মুসল্লীদের কষ্ট হয় এমন কাজ করতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম শক্তভাবে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী হা: নং ২৪৬-৪৭)

সুতরাং মসজিদে মুসল্লীদের জন্য আরামদায়ক বিছানার ব্যবস্থা করতে চেষ্টা করবে। পূর্ণ মসজিদে সম্ভব না হলে অন্তত দুই অথবা চার কাতারে এ ব্যবস্থা করবে। তাও সম্ভব না হলে বয়স্ক মুসল্লীদের জন্য কিছু সংখ্যক মুসল্লা নির্ধারণ করে দিবে। যাতে তারা আরামের সাথে নামায আদায় করতে পারেন। জওয়ানরা বৃদ্ধদের এ সমস্যা বুঝতে সক্ষম নয়, তাই তারা গরমের মৌসুমে সকল বিছানা উঠিয়ে ফেলতে চায়। এটা ঠিক নয়।

মসজিদের জন্য দুই সেট বিছানা রাখবে যাতে করে একটা পরিষ্কার করার সময় অপরটা বিছানো যায়। (বুখারী শরীফ হাদীস নং ২১২, আবূ দাউদ হাদীস নং ৩৩৫,৩৮২২)

৬. মসজিদের সামনের দেয়ালে কিছু লিখবে না বা লেখা টাঙ্গাবে না। এবং রংবেরঙের নকশা ও কারুকার্য করবে না। এতে মুসল্লীদের নামাযের একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। যা নামাযের রূহ। জরুরী কোন লেখা টাঙ্গাতে হলে দুই পাশের দেয়ালে বা পিছনের দেয়ালে তার ব্যবস্থা করবে। (দূররে মুখতার: ১/৬৫৮)

৭. মেহরাবের মধ্যে ইমামের দাঁড়ানোর স্থান কাতারের ঠিক মাঝখানে যেন হয় এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। সুতরাং উভয় পার্শ্বের মুসল্লী যাতে সমান হয়। নতুবা বিনা ঠেকায় কাতার কোন একদিকে বেশী হয়ে গেলে মাকরুহ হবে । সর্বশেষ অসম্পন্ন কাতারেও উভয় পার্শ্বে সমান মুসল্লী থাকতে চেষ্টা করবে। (আবূ দাউদ হাদীস নং ৬৮১)

৮. অধিকাংশ স্থানে মসজিদের ঠিক মাঝে মেহরাব তৈরী করে তার ডান পার্শ্বে মিম্বর তৈরী করে। এতে ইমাম বাম দিকে চেপে দাঁড়াতে বাধ্য হন। এটা মাকরূহ। সুতরাং মেহরাব তৈরী করার সময় এ ব্যাপারে খুব খেয়াল রাখবে মেহরাব যদি বড় আকারের হয় তাহলে তার ডান পার্শ্বে মিম্বর বানানো সত্ত্বেও ইমাম মাঝে দাঁড়াতে সমস্যা হয় না। কিন্তু মেহরাব যদি ছোট আকারে হয় এবং মেহরাবের ভিতরে ডান দিকে মিম্বর বানাতে চায় তাহলে মেহরাবকে মসজিদের একদম মাঝে না বানিয়ে একটু ডান দিকে নির্মাণ করা উচিত। তাহলে ইমামের কাতারের একদম মাঝে দাঁড়াতে সমস্যা হয় না। (আবূ দাউদ হাদীস নং ৬৮১)

৯. অনেকে মনে করে মিম্বর তথা খুতবার সময় ইমামের বসার ও দাঁড়ানোর স্থান কাতারের ঠিক মাঝ বরাবর হওয়া জরুরী। এটা ভুল ধারণা। এর পক্ষে কোন দলীল নেই। (রদ্দুল মুহতার: ১/৬৪৬)

১০. মসজিদের মিম্বর তিন ধাপ বিশিষ্ট হবে এবং প্রত্যেকটি ধাপ এতটুকু উঁচু করবে যাতে খতীব সাহেব সেখানে আরামের সাথে বসতে পারেন। তিনের অধিক ধাপ বিশিষ্ট মিম্বর বানানোর কোন প্রমাণ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নেই। হ্যাঁ তৃতীয় ধাপের উপর হেলান দেয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা যেতে পারে। (ফাতহুল বারী-২/৪৯০, বাযলুল মাজহূদ-২/১৭৮, ইমদাদুল আহকাম-৩.১৯৫, মাহমূদিয়া-১০/১৯১)

১১. মসজিদের তাকের মধ্যে কুরআন শরীফ হিফাজতের কোন ব্যবস্থা করা হয় না। অথচ তা অত্যন্ত জরুরী। সুতরাং কমিটি বা মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব হল, সকল কুরআন মাজীদ গিলাফে রাখার ব্যবস্থা করা এবং কিছু দিন পর পর গিলাফ পাক সাফ করার ব্যবস্থা করা এবং ছিঁড়া ফাটা কুরআন শরীফের কপি যা ঠিক করে পড়ার যোগ্য করা যাবে না সেগুলি পাক কাপড়ে মুড়ে গোরস্থানের কিনারায় দাফন করে দেয়া এবং হিফাজতের জন্য ব্যবস্থা করা। (আলমগীরী-৫/৩২৩)

উল্লেখ্য: তাকের মধ্যে কুরআন মাজীদ সুন্দর করে সাজিয়ে রাখবে। কোন কুরআন উপুড় করে রাখবে না। দুই কুরআনের মাঝে রেহাল রাখবে না। কুরআনের উপর তাফসিরের কিতাব রাখবে না। বা খুতবা ও অন্যান্য কিতাব রাখবে না। মিম্বরের উপর রেহাল ছাড়া সরাসরি কিতাব ও কুরআন রাখবে না। কুরআন তিলাওয়াতের সময় বা বন্ধ করার সময় কুরআনের উপর চশমা, কলম, চিরুনি ইত্যাদি রাখবে না। এসবই কুরআনের সাথে বে-আদবী। (সূরায়ে হজ্জ-৩২, হিন্দিয়া-৫/৩২৩, ইমদাদুল ফাতাওয়া-৪/৬২২)

১২. মেহরাব বা মিম্বরে অনেকে হারিকেন রেখে থাকে বা কেরোসিন তেলের অন্য কোন বাতি রাখে। এটা উচিত নয়। কারণ কেরোসিন একটি দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু। যা মসজিদে দাখিল করা ঠিক নয়। সুতরাং সেখানে মোমবাতির ব্যবস্থা রাখবে। একান্ত অপরাগতায় মসজিদের বাইরে দুপাশে হারিকেন রাখতে পারে। (তিরমিযী শরীফ হাদীস নং-১৮০৬, ইমদাদুল আহকাম-৩/১৮১)

১৩. মসজিদের মিনারা থাকা উপকারী জিনিষ। এর দ্বারা আযানের আওয়াজ অনেক দূরে পৌঁছানো যায়। তাছাড়া মুসাফিরদের জন্য মসজিদের সন্ধান পাওয়াও আসান  হয় । তবে এর জন্য ভিন্ন ফান্ড কালেকশন করা উচিত। মসজিদের নিজস্ব ফান্ড দিয়ে মিনারা তৈরী না করা শ্রেয়। মসজিদের মধ্যে কোন প্রকার কারুকার্যও করবে না। মসজিদের মধ্যে কারুকার্য ও জাঁকজমক করা কিয়ামতের আলামত এবং ইয়াহুদীদের সাদৃশ্যতা। (আবূ দাউদ হাদীস নং ৪৪৮, ফাতহূল কদীর-১/৩৬৮, হিন্দিয়া-২/৪৬২)

১৪. আজকাল বিভিন্ন মসজিদে নামাযে মাইক ব্যবহার করা একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়ে গেছে। দেখা যায়, মসজিদে মাত্র এক বা দেড় কাতার মুসল্লী, যেখানে আসানীর সাথে ইমামের আওয়াজ পৌঁছে যায় এবং মুকাব্বিরের আওয়াজে সুন্দরভাবে রুকু সেজদা করা যায়। তবুও প্রত্যেক ওয়াক্তে মাইক চালানো হচ্ছে। অথচ এর কোন প্রয়োজন নেই। অপরদিকে মাইকে নামায পড়া হলে মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিকট আওয়াজ নামাযে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। এমনকি কখনো মাইকের মাধ্যমে গানের আওয়াজও নামাযে শোনা যায়। নামায সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। যা মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরীকায় সাদাসিধেভাবে পড়াই উত্তম মাইকের এ ফ্যাশনের কারণে প্রায় এসব সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য শরী‘আতের দৃষ্টিতে এ ধরনের ছোট জামা‘আতে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ। হ্যাঁ, যদি অনেক বড় মসজিদ হয় বা কয়েক তলায় জামা‘আত হয় সেখানে সতর্কতার সাথে মাইক ব্যবহারের অবকাশ আছে। অনেক সময় খতীব সাহেব জুম‘আর খুতবা দিতে থাকেন, মুয়াজ্জিন বা খাদেম সাহেব খুতবা চলাকালীন মাইক ঠিক করতে থাকেন। এটা নিষেধ। (রদ্দুল মুহতার: ১/৫৮৯, ২/১৫৯, ইমদাদুল ফাতাওয়া-১/৮৪৫, রহীমিয়া-১/৯০-৯৪)

১৫. মসজিদের মাইক দ্বারা আযান-ইকামত, বয়ান, তাফসীর ইত্যাদির কাজ নিবে। মসজিদের মাইকে মৃত ব্যক্তির খবর প্রচার এবং আরো বিভিন্ন দুনিয়াবী কাজে এ‘লান করা হয়, এগুলো ঠিক নয়। সকলকে বুঝিয়ে এগলো বন্ধ করা উচিত। অথবা মসজিদের টাকা দিয়ে মাইক খরীদ না করে ব্যাপক উদ্দেশ্যের কথা বলে ফান্ড সংগ্রহ করে তা দিয়ে মাইক খরীদ করবে । তখন দুনিয়াবী বিশেষ প্রয়োজনেও ঐ মাইক ব্যবহার করতে পারবে। (হিন্দিয়া-২/৪৫৯, আহসানুল ফাতাওয়া-৬/৪৪৬, রহীমিয়া-৬/১০৬)

১৬. মসজিদের মাইক দ্বারা অনেক স্থানে শেষ রাত্রে যিকির করা হয় বা গযল পড়া হয় বা তিলাওয়াত করা হয় । এসবই নাজায়িয। কারণে এতে লোকদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে এবং ইবাদাতকারীদের সমস্যা সৃষ্টি হয় । তাছাড়া অনেক স্থানে ইশার পর গভীর রাত পর্যন্ত মাইকে গযল, কিরাত পড়া হয়। এটাও নিষেধ। (বুখারী শরীফ হাদীস নং ৬০১৮, যিকর ও ফিকর-২৫, মাহমূদিয়া-১৮/১৩৩)

১৭. আজকাল মসজিদের মধ্যে আযান দেয়ার প্রথা চালু হয়ে গেছে এটা শরী‘আতে পছন্দনীয় নয় । ফুকাহায়ে কেরাম লিখেছেন যে মসজিদের মধ্যে আযান দিবে না। সুতরাং মুয়াজ্জিন সাহেবের রুমে বা মসজিদের বাইরে অন্য কোন রুমে আযানের ব্যবস্থা করবে। (হিন্দিয়া খ -১পৃ-৫৫)

১৮. বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদে আযান ইকামত সুন্নাতের বরখেলাপ দেয়া হচ্ছে। সুতরাং মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেয়ার সময় কোন হক্কানী আলেম দ্বারা পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ দিবে। আর যদি পূর্বে নিয়োগ প্রাপ্ত মুয়াজ্জিন হয় তাহলে যে সব প্রতিষ্ঠানে সুন্নাত তরীকায় আযান ইকামতের মশক করানো হয় সেখানে পাঠিয়ে সুন্নাত তরীকায় আযান ইকামতের মশক করিয়ে নিবে। এটা কমিটির একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। (বুখারী শরীফ হাদীস নং ৬৭৭)

১৯. মসজিদের কোন মাল-সামানা বাইরের দীনী কাজেও ব্যবহার করবে না। এমনকি ঈদগাহের কাজের জন্যও মসজিদের বিছানা ইত্যাদি ব্যবহার করবে না। ঈদগাহের জন্য আলাদা সামানার ব্যবস্থা করবে। (রদ্দুল মুহতার-৪/৩৫৯, রহীমিয়া-৩/১৬৩, আহসানুল ফাতাওয়া-৬/৪০৭)

২০. মসজিদ ফান্ড থেকে রমযান মাসে হাফেয সাহেবদের তারাবীহর বিনিময় দিবে না। সূরা তারাবীহ হোক বা খতম তারাবীহ হোক। কারণ তারাবীহ বিনিময় লেন-দেন উভয়টাই নাজায়িয। আর নাজায়িয কাজে মসজিদ ফান্ডের টাকা খরচ করার তো প্রশ্নই আসে না। (আহসানুল ফাতাওয়া-৩/৫১৪, ইমদাদুল মুফতীন-৩১৫, মাহমূদিয়া-৮/২৪৭, ১৮/১৮০)

২১. অনেক মসজিদের মুতাওয়াল্লী মসজিদের টাকা নিজের ব্যবসায় লাগিয়ে থাকে। এটা জায়িয নেই। বরং এটা মারাত্মক খেয়ানত। এ কাজ করলে সে মুতাওয়াল্লীর যোগ্য থাকবে না। (রদ্দুল মুহতার-৪/৩৮০, আহকামে মাসজিদ-২৪৯)

২২. হাদীসে এসেছে মসজিদকে সুগন্ধময় ও খুশবুদার করতে হবে। বিশেষ করে জুম‘আর দিন অবশ্যই আগরবাতী, লোবান ইত্যাদির মাধ্যমে মসজিদ খুশবুদার করা নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত। কিন্তু বর্তমানে বলতে গেলে এ সুন্নাতটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সুতরাং এ সুন্নাতটির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া জরুরী। এবং জুম‘আর দিন মসজিদকে বিশেষভাবে খুশবুদার করা কর্তব্য। (তিরমিযী শরীফ হাদীস নং ৫৯৪, মিরকাত-২/৩৯৩)

২৩. মসজিদে বিছানা বিছানো এবং বাতি দেয়া সুন্নাত। কিন্তু প্রয়োজনমাফিক বাতি লাগাবে। প্রয়োজন অতিরিক্ত বাতি লাগানো ও জ্বালানো অপচয় ও নাজায়িয। অধুনা অনেক মসজিদে শবে বরাত, শবে ক্বদর ইত্যাদিতে আলোকসজ্জা করা হয়, অর্থাৎ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক বাতি লাগানো হয়। এটা অপচয় ও অগ্নিপুজকদের সাথে সাদৃশ্যতার কারণে না জায়িয। (সূরা বনী ইসরাইল-২৬-২৭, মুসনাদে আহমাদ-৩/১৩৬)

২৪. বর্তমানে মসজিদের মধ্যে যেভাবে ইফতারের আয়োজন করা হয় তাতে (অনেক লোকের আয়োজনে হই- হুল্লা এবং মসজিদে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পড়ে থাকার দরুন) মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয়। এটা বর্জনীয় তবে শুধু খেজুর এবং পানি দ্বারা ইফতার করাতে অসুবিধা নেই। (রদ্দুল মুহতার-২/৪৪৯, আহসানুল ফাতাওয়া-৬/৪৫)

২৫. কোন মসজিদ জীর্ণশীর্ণ বা সংকীর্ণ হয়ে গেলে তা ভেঙ্গে ফেলে নতুনভাবে তৈরী করা জায়িয। পুরানা সামানপত্র বিক্রি করে মসজিদের কাজে লাগিয়ে দিবে। খরিদকারী উক্ত সামান বৈধ ও পবিত্র স্থানে ব্যবহার করবে। মসজিদকে সুন্দর করার জন্য বা সাজানোর জন্য মজবূত মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা নাজায়িয। আজকাল অনেকেই মসজিদ নিয়ে গর্ব ও বড়াই করার লক্ষ্যে পুরানা মসজিদকে মজবূত থাকা সত্ত্বেও শহীদ করে এ ধরনের নাজায়িয কাজ করে থাকে। (আবূ দাউদ হাদীস নং ৪৪৮-৪৪৯, মুসনাদে আহমাদ-৩/১৩৬)

২৬. মসজিদের দোকান-পাট এর পজিশন বিক্রি করা জায়িয নেই। মসজিদ ছাড়াও পজিশন বেচা কেনা শরী‘আতে পছন্দনীয় নয়। তাছাড়া মসজিদের দোকান-পাট দীর্ঘ মেয়াদী ভাড়াও দিবে না। এতেও এক ধরনের মালিকানাভাব সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে। যা মসজিদের সম্পত্তিতে নিষেধ। হ্যাঁ এক বছরের জন্য ভাড়া দিবে। এবং প্রতি বছর ভাড়া চুক্তি নবায়ন করে নিবে। আর মসজিদের দোকান-পাট ভাড়া দেওয়ার সময় বিশেষ করে খেয়াল রাখবে কোন অবৈধ কাজের দোকান যেমন: টিভি, ভিডিও ইত্যাদি গান-বাজনার সামগ্রীর জন্যে যেন না হয়। কারণ এসবই নাজায়িয । আর এ ধরনের কাজে দোকান ভাড়া দেয়া গুনাহের কাজে সহায়তারই শামিল। (সূরায়ে মায়িদা: ২, রদ্দুল মুহহার-৪/৪০০, বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়া-১/১০৮)

২৭. একবার মসজিদ নির্মাণ করার পর সে স্থানে বা তার কোন অংশে দোকান-পাট, মার্কেট ও উযূ খানা করা নাজায়িয। কারণ সেটা কিয়ামত পর্যন্ত মসজিদ থাকে। এটাকে মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন কাজে ব্যবহার বা পরিবর্তন করা নাজায়িয ও হারাম। তাছাড়া মসজিদের কোন অংশ নিজ অবস্থায় রেখেও কখনো ভাড়ায় দেওয়া যেমন: মূল মসজিদ ভবনের দেয়ালে বা ছাদে বিলবোর্ড, টাওয়ার ইত্যাদি বসাতে দেয়া জায়িয হবে না। (রদ্দুল মুহতার-৪/৩৫৭-৩৫৮)

বর্তমানে অনেক স্থানে দেখা যায় যে, নীচ তলায় বহু দিন যাবত নামায ও জামা‘আত অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোন প্রকার ঘোষণাও ছিল না যে, “এখানে অস্থায়ীভাবে নামায পড়া হচ্ছে, পরবর্তীতে দোতলা থেকে স্থায়ী মসজিদ আরম্ভ হবে।” এমতাবস্থায় উক্ত প্রথম তলা বন্ধ করে দিয়ে সেখানে মার্কেট, দোকান-পাট বানানো হচ্ছে। যদিও উক্ত আয় মসজিদের জন্য ব্যয় করা হবে, তথাপি মসজিদকে পরিবর্তন করে ফেলার দরুন এটা কবীরা গুনাহ। এটা কোন ভাবেই জায়িয হবে না। কোন মসজিদ কর্তৃপক্ষ এরূপ করে থাকলে তারা যদি জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চায় তাহলে তাদের জন্য একটাই রাস্তা খোলা আছে, সেটা হল ঐ মার্কেট, দোকান-পাট ভেঙে মসজিদকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিবে এবং আল্লাহর দরবারে ভালভাবে তাওবা ইস্তিগফার করে নিবে। তবে যেখানে পূর্বেই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল যে, “প্রথম তলায় অস্থায়ী ভাবে নামায ও জামা‘আত করা হবে।” সেখানে পরবর্তীতে নীচ তলায় দোকান-পাট ইত্যাদি করতে অসুবিধা নেই। তবে বৈধ মালের দোকান-পাট হতে হবে এবং মসজিদের পবিত্রতার দিকে খুব খেয়াল করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার-৪/৩৫৮, আযীযুল ফাতাওয়া-২২৮)

উল্লেখ্য: মূল মসজিদের নীচে বা উপরে কখনো কোন প্রকার টয়লেট, উযূখানা বা ফ্যামিলি কোয়াটার তৈরী করা যাবে না। (রদ্দুল মুহতার-১/৬৫৬, ৪/৩৫৮)

২৮. মুসাফির এবং ই‘তিকাফরত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ রাতের এক তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশী সময় মসজিদে অবস্থান করতে পারবে না। এবং মসজিদের কোন সামান যেমন লাইট, ফ্যান ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবে না। অবশ্য ই‘তিকাফের মধ্যে নফল ই‘তিকাফও শামিল, কাজেই দীনী দাওয়াত ও তা‘লীমের জন্যে সাময়িক খাকতে হলে নফল ই‘তিকাফের নিয়তে থাকারও প্রয়োজনে মসজিদের আসবাব ব্যবহারের অবকাশ আছে। (আলমগীরী-২/৪৫৯)

২৯. বর্তমানে কোন কোন সাধারণ মসজিদে মহিলাদের নামায পড়ার যে আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে শরী‘আতের দৃষ্টিতে তা বৈধ নয়। আবূ হুমাইদ আস্ সা‘ইদী রাযি.-এর স্ত্রী উম্মে হুমাইদ একবার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাথে জামা‘আতে নামায পড়তে আমার ভাল লাগে। একথা শুনে মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন তা আমি জানি। তবে শুন, তোমার জন্য তোমার ঘরের অভ্যন্তরে নামায পড়া বারান্দায় নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আবার বারান্দার কামরায় নামায পড়া তোমার জন্য তোমার ঘরের আঙিনায় নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর তোমার ঘরের আঙিনায় নামায তোমার জন্য তোমার মহল্লার মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। একইভাবে তোমার মহল্লার মসজিদে নামায তোমার জন্য আমার মসজিদে আমার সাথে নামায পড়ার চেয়েও উত্তম।

হাদীসের বর্ণনাকারী বলেন: একথা শোনার পর তিনি পরিবারের লোকদেরকে ঘরের ভিতরে নামাযের স্থান বানাতে বলেন। তার নির্দেশে অনুযায়ী তা বানানো হয়। এরপর তিনি আমৃত্যু সেখানেই নামায পড়তে থাকেন। (সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস নং-২২১৭)

হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর মহিলাদের মধ্যে যে ধরনের পরিবর্তন এসেছে সেটা যদি তিনি দেখতেন তাহলে নিঃসন্দেহে তিনি তাদেরকে মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন। যেভাবে নিষেধ করা হয়েছিল বনী ইসরাঈলের মহিলাদেরকে। (বুখারী শরীফ হাদীস নং-৮৬৯)

এ ধরনের আরো বহু হাদীস যেগুলো মহিলাদের মসজিদে গমনকে নিষেধ করে সে সমস্ত হাদীস এবং সাহাবায়ে কেরামের ঐক্য মতের ভিত্তিতে ফুকাহায়ে কেরাম মহিলাদের জন্য মসজিদে যাওয়াকে নাজায়িয সাব্যস্ত করেছেন। এজন্য বর্তমানে যে সকল মহিলা মসজিদে গিয়ে নামায পড়ছে। তারা নাজায়িয কাজ করছে। তাদের একাজ পরিহার করা কর্তব্য।

অবশ্য টার্মিনাল, জংশন, স্টেশন তথা ভ্রমণ পথের এ জাতীয় স্থানে মসজিদের পার্শ্বে মুসাফির মহিলাদের উযূ ও নামাযের পর্দার ব্যবস্থা সম্বলিত জায়গা রাখা বাঞ্ছনীয়। যেখানে তারা ইস্তিঞ্জা উযূ সেরে একাকী নামায পড়ে নিতে পারে।

বি: দ্র: এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, ই‘লাউস সুনান-৪/২৬০ ইবনে খুযাইমা হা: নং ১৬৮৩, মুসনাদে আহমাদ: ৬/২৯৭, তাবারানী কাবীর, ২৫/১৪৮, মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২/১১৮

৩০. মসজিদে জুতা নেয়ার মাসআলা হল: মসজিদের গেটে জুতার ধুলা-বালি ঝেড়ে কাপড়ের ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলবে। তারপর কাতারে দুই পায়ের মাঝে রেখে দিবে। এটাই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। (আবু দাউদ হাদীস নং ৬৫৪)

আজকাল সিজদার জায়গার সামনে জুতা রাখা হয়। সিজদায় গেলে অনেক ক্ষেত্রে জুতা মাথায় লাগে। তাছাড়া জুতার বাক্সে কোন ঢাকনা না থাকায় জুতা যে মুসল্লীদেরকে এস্তেকবাল করে। এ তরীকা পছন্দনীয় নয়। সুতরাং জুতা বাক্সে রাখতে হলে বাক্সের ঢাকনা থাকা উচিত। (আবূ দাউদ হাদীস নং ৪৫৫-৪৫৬)

৩১. মসজিদে একমাত্র ইমামের স্থান নির্ধারিত। মুয়াজ্জিন বা অন্য কারো স্থান নির্ধারিত নয়। মুয়াজ্জিন যে কোন কাতারে দাঁড়িয়ে ইক্বামত দিতে পারে। কাজেই মুয়াজ্জিন বা মসজিদের অন্য কোন কর্মকর্তা বা মুসল্লীর জন্য সর্বক্ষণ জায়নামায বিছিয়ে মসজিদে সিট দখল করে রাখা শরী‘আত বিরোধী কাজ। সুতরাং যে প্রথমে আসবে সেই প্রথম কাতারে ইমামের পিছনে বসতে পারবে। এক্ষেত্র আমির-ফকিরের কোন পার্থক্য নেই। তবে সম্ভব হলে ইমামের সরাসরি পিছনে প্রথম কাতারে আলেম-উলামাদের দাঁড়ানো উচিত বা তাঁদের জন্য সুযোগ করে দেয়া ভাল। যাতে ইমামের ভুল ভ্রান্তি হলে তারা কাছ থেকে সংশোধন করে সকলের নামাযের হেফাজত করতে পারেন কিংবা ইমামের কোন সমস্যা হয়ে গেলে তিনি নিজে সরে গিয়ে তাদের একজনকে নিজের স্থানে দাঁড় করিয়ে ইমামতির কাজ দিতে পারেন। (মুসলিম হা: নং ১২২, তিরমিযী হা: ২২৮, রদ্দুল মুহতার-১/৬৬২, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া : ১০/৫৩)

৩২. কোন জায়গায় দেখা যায় যে, বিনা উযরে দোতলা মসজিদের প্রথম তলা বাদ রেখে দ্বিতীয় তলায় জামা‘আত করে থাকে। এটা উচিত নয়। বরং ইমাম সাহেব নীচ তলায় দাঁড়াবেন। এবং মুসল্লীগনও নীচ তলায় দাঁড়াবেন। অর্থাৎ, জামা‘আত নীচ তালায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে নীচ তলায় যাদের জায়গা হবে না তারা দ্বিতীয় তলায় জামা‘আতে শরীক হবেন। (রহীমিয়া-৯/২১৮)

৩৩. নামাযের কাতার তিন হাত বা কমপক্ষে পৌনে তিন হাত চওড়া করবে। যাতে সুন্নাত তরীকা মুতাবেক সিজদা করা সম্ভব হয়। অনেক মসজিদে দুই বা আড়াই হাত চওড়া কাতার করা হয় যার মধ্যে স্বাভাবিক ভাবে সিজদা করা সম্ভব হয় না। মাথা সামনের মুসল্লীর পায়ে আটকে যায়। (মুসলিম শরীফ হাদীস নং ৪৯৬, আবূ দাউদ হাদীস নং ৮৯৮)

৩৪. কাতারের দাগের উপর পায়ের গোড়ালী রেখে কাতার সোজা করবে। এটাই সহীহ তরীকা। অনেক স্থানে দাগে আঙ্গুল রেখে কাতার সোজা করা হয়, এতে কাতার কখনও সোজা হয় না। বরং যার পা লম্বা সে পিছনে থাকে আর যার পা খাটো সে সামনে চলে যায়। (আবূ দাউদ হাদীস নং ৬৬৭, রদ্দুল মুহতার: ১/৫৬৭)

৩৫. কাতার মাঝখানে থেকে শুরু হয়ে সমানভাবে ডানে বাঁয়ে বাড়াতে থাকবে। এটাই নিয়ম। অনেকে বাতাসের লোভে এ নিয়ম ভঙ্গ করে সামনের কাতার খালী থাকা সত্ত্বেও পিছনে পাখার নীচে দাঁড়ায়। কাতার হিসেবে তার কোথায় দাঁড়ানো উচিত তার কোন পরওয়া করে না। এটা সুন্নাত পরিপন্থী কাজ। কোন কোন মাযহাবে এ সমস্ত ভুলের কারণে নামায নষ্ট হয়ে যায়। আবার কোনো কোন লোক এমনও দেখা যায় যে, মসজিদে অনেক আগে এসে সামনে খালী পাওয়া সত্ত্বেও পিছনে বসে থাকে। তাদের এ কাজের হিকমত বোধগম্য নয়। আবার কেউ সবার শেষে এসে সামনে খালী না থাকা সত্ত্বেও মানুষেরে কাঁধ টপকিয়ে সামনে যায়। তারপর জায়গা না পেয়ে দুজনের ঘাড়ে সাওয়ার হয়। এটা খুবই গর্হিত কাজ। হাদীসে এসেছে যে এরূপ করল সে যেন জাহান্নামে যাওয়ার জন্য একটি পুল তৈরী করল। (মুসলিম শরীফ: হাদীস নং ৪৩০, আবূ দাউদ হাদীস  নং ৬৭১, তিরমিযী হাদীস নং ৫১২)

৩৬. হাদীস না জানার কারণে অনেকে জুম‘আর খুতবার পূর্বের বয়ানকে বিদ‘আত বলে থাকেন। তাদের এই মাসআলা ঠিক নয়। দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমরে ফারুক রাযি. এর জামানায় তার খুতবার পূর্বে হাজার হাজার সাহাবায়ে কেরামের রাযি. উপস্থিতিতে হযরত তামীমে দারী রাযি. বয়ান রাখতেন। কখনো অন্য সাহাবীও বয়ান করতেন। কেউ এতে আপত্তি করেননি। (মুসতাদরাকে হাকেম: হাদীস নং ৩৬৭)

সুতরাং এটা বিদ‘আত বা নাজায়িয হতে পারে না। তবে এ বয়ানটি মসজিদের মিম্বরে না হয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে বা চেয়ারে বসে করবে। যাতে জুম‘আর খুতবা দুইটির স্থলে তিনটির মত না দেখায়। সুতরাং এই বিষয়টির প্রতিও সকলের খেয়াল করা দরকার। কোথাও বিদ‘আতের ভয়ে বয়ানই করে না। আবার কোথাও মিম্বরে বসে এই বয়ান করা হয়। উভয়টি ভুল তরীকা। (মু: ইবনে আবী শাইবা, হা: নং ৫৪৩৩, মু: হাকেম-৩৬৭)

৩৭. জুম‘আর প্রথম আযানের সাথে সাথে মসজিদে রওয়ানা হওয়া বা রওয়ানার প্রস্তুতি নেয়া জরুরী। প্রথম আযানের পর বেচা-কেনা ও দুনিয়াবী অন্যান্য কাজ এমনকি ঘরে বসে নফল নামায বা কুরআন তিলাওয়াত সবই নিষেধ হয়ে যায়। (সূরায়ে জুম‘আ-৯)

সুতরাং জুম‘আর প্রথম আযান অনেক আগে দিবে না। যাতে লোকদেরকে গুনাহগার বানানো না হয়। কারণ এত আগে তারা মসজিদে হাজির হয় না। এজন্য সুন্দর নিয়ম হল, সোয়া বারটা বা সাড়ে বারটায় খতীব সাহেব বাংলা বয়ান শুরু করে দিবেন। আধ ঘণ্টা বা পৌনে এক ঘণ্টা বয়ানের পর জুম‘আর প্রথম আযান হবে। তারপর সকলে সুন্নাত পড়ে নিবে এবং দান বাক্স চালাতে হলে চালাবে। তারপর খুতবার আযান হবে এবং খুতবা শুরু হয়ে যাবে। (প্রাগুক্ত)

৩৮.  আমাদের দেশে অনেক মসজিদে খুতবা চলাকালীন দান বাক্স চালানো হয়। এটা মারাত্মক ভুল। এতে গুনাহ তো হয়ই, উপরন্তু জুম‘আর ফযীলতও বাতিল হয়ে যায়। (সূরায়ে আ‘রাফ-২০৪, মুসলিম শরীফ হা: নং ৮৫১)

কাজেই কাবলাল জুম‘আ সুন্নাতের পরে বা ফরয নামাযের সালামের পরে মসজিদের জন্য কালেকশন করবে। এর উত্তম তরীকা হল প্রত্যেক কাতারে একজন রুমাল নিয়ে চলতে থাকবে। সকলে রুমালের মধ্যে হাত ঢুকাবে। চাই এই মুহূর্তে দান করুক বা না করুক। এতে কারো প্রতি বদগুমানী হবে না এবং আস্তে আস্তে সকলের মধ্যে দানের অভ্যাস গড়ে উঠবে।

৩৯. বিনা অপরাগতায় মসজিদে জানাযা নামায পড়া মাকরূহে তাহরীমী ও নাজায়িয। যদিও লাশ মসজিদের বাইরে রাখা হয়। এর দ্বারা জানাযা নামাযের যে উহুদ পাহাড় পরিমাণ সওয়াবের কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে তাও বাতিল হয়ে যায়। সুতরাং যে সব এলাকায় কোন মাঠ বা খালী স্থান আছে সেখানে অবশ্যই মাঠে জানাযা পড়বে। অলসতা করে মসজিদের মধ্যে জানাযা পড়বে না। হ্যাঁ! যেখানে এ ধরনের মাঠ নেই বা প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে সে ক্ষেত্রে ঠেকাবশত: মসজিদের মধ্যে জানাযা পড়ার অবকাশ আছে। (আবূ দাউদ হা: নং ৩১৯১, রদ্দুল মুহতার-২/২২৪)

উল্লেখ্য, মসজিদের মাঠে জানাযা পড়ার ক্ষেত্রে সুন্নাত নামায থাকলে তা পড়ে তারপর জানাযার জন্য বের হওয়া উত্তম। কারণ লোকদের অন্তরে সুন্নাতের গুরুত্ব কমে গেছে। তাই কোন বাহানায় বের হয়ে গেলে আর সুন্নাত পড়া হয় না। (আবূ দাউদ হাদীস নং ৩১৮৯, ফাতহুল বারী-২/৯০)

৪০. বর্তমানে মসজিদের মধ্যে ঈদের নামায পড়ার একটা কুপ্রথা চালু হয়ে গেছে। এটা বন্ধ করা উচিত। কারণ ঈদের নামায মাঠে ময়দানে ও ঈদগাহে পড়া নবীজীর সুন্নাত। মসজিদে পড়া সুন্নাত নয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবল বৃষ্টির উযরে জীবনে একবার মাত্র মসজিদে ঈদের নামায পড়িয়ে ছিলেন। এছাড়া সব সময় তিনি ঈদের নামায ময়দানে পড়েছেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আশেকদের জন্য এসব সুন্নাতের প্রতি দৃষ্টি দেয়া খুবই প্রয়োজন। (বুখারী শরীফ হাদীস নং ৯৫৬, আবূ দাউদ হাদীস নং ১১৬০)

৪১. ইমাম সাহেবের দায়িত্ব শুধু নামায পড়ানো নয়। বরং তিনি পুরো মহল্লার দায়িত্বশীল। কাজেই সকল বেনামাযীকে নামাযী এবং বেজামা‘আতীদেরকে জামা‘আতের পাবন্দ বানানোর জন্য তিনি পরিকল্পনা মাফিক মেহনত চালিয়ে যাবেন। কমিটির সদস্যগণ তাঁকে সম্মানজনক বেতন দিবেন। যাতে ইমাম-মুয়াজ্জিনের টিউশনি করতে না হয়। তারা মানুষের ঘরে গিয়ে একটা বাচ্চাকে কেন পড়াবেন। তারা তো মহল্লার সকল বয়সের লোকদের দীনের জরুরী বিষয় শিক্ষা দান করবেন। ইমাম বুখারী রহ. জন্মভূমি বুখারা থেকে বহিষ্কার হওয়াকে বরণ করে নিয়েছিলেন কিন্তু আমীরের বাড়ীতে গিয়ে টিউশনি করতে রাজী হননি। (সিয়ার: ১০/৩১৭)

ইমাম সাহেব মসজিদের মধ্যে প্রতিদিন রুটিন মাফিক অন্তত তিন প্রকার তা‘লীম দিবেন।

ক. ঈমান ও আকীদার তা‘লীম এবং ঈমান বিনষ্টকারী বিষয়ের তা‘লীম। এ বিষয়টি শরী‘আতে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এর চেয়ে জরুরী কোন বিষয় শরী‘আতে নেই। (বুখারী হা: নং ৯, মুসলিম হা: নং ১, আবূ দাউদ হা: নং ৪৬৯৫)

খ. কুরআনে কারীম ও দু‘আ-কালাম, আত্তাহিয়্যাতু, দরূদ শরীফ ইত্যাদি সহীহ করার তা‘লীম। এটা নূরানী পদ্ধতি অনুযায়ী চক-স্লেটের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে সুন্দরভাবে শিখানো সম্ভব। (দারা কুতনী হা: নং ৪৫, দারেমী হা: নং ২২১)

গ. দীনের জরুরী মাসাইল এবং উযূ, নামায, আযান, ইকামতের বাস্তব প্রশিক্ষণ যা একান্ত জরুরী। কারণ প্রশিক্ষণ ব্যতীত শুধু বয়ান শুনার দ্বারা নামায সহীহ করা সম্ভব নয়। (বুখারী শরীফ হা: নং ৬৭৭, নাসায়ী হা: নং ২২৭৭, আবূ দাউদ হা: নং ৫৩০)

এছাড়াও সপ্তাহে এক দিন আধা ঘণ্টার জন্য মুসল্লীদেরকে ধারাবাহিকভাবে কুরআনের তাফসীর করে শুনাবেন। জুম‘আর বয়ানটি পরিকল্পিত ভাবে করবেন। যাতে সকল মুসল্লীর মধ্যে ফরযে আইন পরিমাণ ইলম এসে যায়। যথা: ঈমান-আক্বীদা ঠিক করা, ইবাদাত বন্দেগী সুন্নাত ও মাসআলা অনুযায়ী করা, রিযিক হালাল রাখা, বান্দার হক আদায় করা, এবং আত্মশুদ্ধি করা। “ইসলামী যিন্দেগী” অথবা “আহকামে যিন্দেগী” কিতাব থেকে বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দেখে নিবেন। এবং মুসল্লীদের সামনে অল্প অল্প করে পেশ করবেন। তাছাড়া ইমাম সাহেব মুসল্লীদের নিয়ে নিজের মহল্লায় এবং পার্শ্ববর্তী মহল্লায় গাশতের নেযাম চালু করবেন এবং মহল্লার দু:স্থ মানবতার খেদমতের জন্য ধনীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। এই হল ইমাম সাহেবদের দায়িত্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ। এসব দায়িত্ব পালন করলে মসজিদগুলো হেদায়েতের মারকাযে পরিণত হবে ইনশা আল্লাহ। (সূরায়ে আলে ইমরান-১৬৪, আবূ দাউদ- হাদীস নং ৩৬৪১)

৪২. বর্তমানে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা থেকে আরম্ভ করে সব কিছু পরিচালনা করা হচ্ছে। অথচ কুরআনে কারীমের বহু আয়াতে গণতন্ত্রের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। যার কিছু লেখকের “কিতাবুল ঈমান” এর ৫ম অধ্যায় থেকে জানা যাবে।

পরিচালনার এ পদ্ধতি সর্ব নিকৃষ্ট পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে মানুষের মাথা গণনা করা হয়। কিন্তু মগজ মাপা হয় না। এ পদ্ধতিতে একজন বিচারপতির রায়ের যে মূল্য একজন বেকুফের রায়ের একই মূল্য। এ পদ্ধতিতে কখনো কোন জিনিষ ভালভাবে চলতে পারে না। এজন্য মসজিদ পরিচালনার ব্যাপারে নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।

মহল্লার মধ্যে যারা মুরব্বী শ্রেণীর, পাক্কা নামাযী, পরহেযগার ও জ্ঞানী লোক থাকবেন ইমাম সাহেবসহ তাদেরকে মজলিসে শুরা ঘোষণা করবেন। অতঃপর তাদের পরামর্শে ও মনোনয়নে মাঝ বয়সী পরহেযগার নামাযী ও জ্ঞানী লোকদেরকে কমিটির সদস্য বা মুতাওয়াল্লীর সাহায্যকারী বানানো হবে। এরা মূলতঃ মসজিদের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাবেন আর মজলিসে শুরা শুধু তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করতে থাকবেন। কমিটির কোন ভুল ভ্রান্তি হলে তারা শুধরিয়ে দিবেন। কমিটির সদস্যদের মধ্যে কোন ভুল বুঝাবুঝি হলে তারা মীমাংসা করে দিবেন। এবং তাদেরকে সুপরামর্শ দিতে থাকবেন। কোন সদস্য মসজিদের জন্য সময় না দিলে বা কাজে অনীহা প্রকাশ করলে তাকে সংশোধন করবেন। যদি সে অপারগতা পেশ করে তাহলে তার স্থলে নতুন সদস্য মনোনীত করবেন।

সারকথা ইসলামে জ্ঞানীদের মনোনয়ন ও পরামর্শ ভিত্তিক সিদ্ধান্ত সমর্থন করে। জনসাধারণের নির্বাচনকে সমর্থন করে না। বা তাদের ভোটাভোটির সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করে না। (সূরায়ে নিসাঃ ৫৯, আন‘আম-১১৬, বিদায়া নিহায়া-৭/১৪০)

৪৩. বিনিময় নিয়ে মসজিদের মধ্যে বাচ্চাদের বা অন্যদের তা‘লীম দেয়া মাকরুহ ও নাজায়িয। আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম করা হচ্ছে। এজন্য ইমাম-মুয়াজ্জিন বা খাদিমগণ মসজিদের তা‘লীম আল্লাহর ওয়াস্তে দিবে। অপরদিকে মসজিদ কমিটি তাদের জন্য সম্মানজনক বেতনের ব্যবস্থা করবে। যাতে তারা এ নাজায়িয বেতনের মুখাপেক্ষী না থাকেন। এতে আলেমদের মর্যাদাহানি হয়। এ থেকে পরহেয করা কর্তব্য। (মুসলিম শরীফ-হাদীস নং ২৮৫, দূরের মুখতার ও রদ্দুল মুহতার-৫/৩৬৪, হিন্দিয়া-৫/৩২১)

৪৪. মসজিদের ভিতরে বা মসজিদের উপরের তলায় আবাসিক মাদরাসা কায়েম করা জায়িয নেই। এতে মসজিদের সম্মান ও ইহতেরাম রক্ষা পায় না। বর্তমানে কিছু কিছু স্থানে দেখা যাচ্ছে যে, মসজিদ কমিটি দীনের খেদমত মনে করে মসজিদের মধ্যে এ ধরনের মাদরাসা কায়েম করেছেন। যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে নিষেধ। হ্যাঁ! অনাবাসিকভাবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদের যে কোন তলায় দীনের তা‘লীম তারবিয়ত জায়িয আছে। তবে যিনি পড়াবেন তিনি বিনা বেতনে পড়াবেন এবং এ তা‘লীমের দ্বারা মুসল্লীদের ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যে কোন অসুবিধা না হয় সে দিকে খেয়াল রাখা জরুরী। (রদ্দুল মুহতার-১/৬৬০-৬৬৩, হিন্দিয়া-৫/৩২১)

মসজিদের আরো কতিপয় আদব

পূর্বের আলোচনায় মসজিদের অনেকগুলা আদব বর্ণিত হয়েছে। সেগুলো ছাড়া ফকীহ আবুল লাইসরহ. ‘তাম্বীহুল গাফেলীন’ নামক কিতাবে মসজিদের আরো কতিপয় আদব উল্লেখ করেছেন, যথাঃ

১. মসজিদে অবস্থানরত লোকজন যদি নামায, যিকির কিংবা তিলাওয়াতে মশগুল না থাকে তাহলে মসজিদে প্রবেশের সময় তাদেরকে সালাম করা। আর যদি তারা নামায ইত্যাদিতে মশগুল থাকে তখন উচ্চ স্বরে সালাম করা নিষেধ। আর এতে মুসল্লিদের ইবাদতে সমস্যা সৃষ্টি হয়। সুতরাং অনেকে মসজিদে প্রবেশ করে সশব্দে মুসল্লীদের যে সালাম করে তা ভুল।

২. মসজিদে প্রবেশের পর দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ এর নামায পড়া ভাল। ভুলে বসে পড়লেও এ নামায পড়া যায়। এটা যুহর, আসর এবং ইশার ওয়াক্তে। প্রতিদিন অন্তত একবার হলেও পড়া কর্তব্য। অনেকে দিনে এক ওয়াক্তেও এ নামায পড়ে না। এটা ঠিক নয়।

৩. কোন ধরনের বেচা-কেনা করা। যদিও তা ফোনের মাধ্যমে হোক না কেন। সারকথা, দুনিয়াবী কথা বলার জন্য মসজিদে বসা ও প্রবেশ করা জায়িয নেই। তেমনি ভাবে নামাযের জন্য মসজিদে গিয়ে দুনিয়াবী লম্বা কথা বলাও না জায়িয। তবে ঠেকাবশত ২/১টি কথা বলার অবকাশ আছে।

৪. মসজিদে কোন হারানো জিনিষের ঘোষণা দেয়া জায়িয নেই। এতে মুসল্লীদের ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটে। তবে মসজিদের গেইটে এ ধরনের এ‘লান করতে পারে।

৫. নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা নাজায়িয। এটা মারাত্মক গুনাহ। একান্ত যেতে হলে কোন কিছুর দ্বারা সুতরা স্থাপন করে তারপর যাবে। অবশ্য যে ব্যক্তি মুসল্লী বরাবর সামনে বসে আছে সে যে কোন এক পাশ দিয়ে চলে যেতে পারে।

৬. মসজিদে থুথু বা কফ না ফেলা বা মসজিদের সীমানায় উযূ না করা এবং আঙ্গুল না ফুটানো।

৭. মসজিদকে নাপাক বস্তু, অবুঝ শিশু, পাগল প্রবেশ করতে না দেয়া এবং কাউকে শারীরিক শাস্তি প্রদান করা থেকে পবিত্র রাখা। (হিন্দিয়া-৫/৩২১)

তবে বুঝমান তথা ৭ বছর বা ততোধিক বয়সের ছেলেদেরকে মসজিদে এনে নিজের পাশে রেখে নামায পড়ানো প্রত্যেক অভিভাবকের দায়িত্ব। যাতে তারা নামায ও জামা‘আত সম্পর্কে অভ্যস্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সাথে তাদেরকে বড়দের কাতারে দাঁড় করানোই শ্রেয় এবং এতে কোন অসুবিধা নেই। তা না করে এ ধরণের বাচ্চাদেরকে পিছনে ঠেলে দিলে এক দিকে যেমন অভিভাবকদের পেরেশানী হতে পারে। অপরদিকে কয়েকজন বাচ্চা মিলে নামাযের পরিবর্তে হট্টোগোলে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। (আহসানুল ফাতাওয়া-৩/২৮)

উল্লেখ্যঃ বক্ষ্যমাণ পরচায় যে সব বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হল, সে সব বিষয়ের অনেকগুলোই মাদরাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে। এ জন্য মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সে সব বিষয়ের দিকে বিশেষ খেয়াল করা কর্তব্য।

বিঃদ্রঃ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য মুফতি শফী (রহঃ)-এর লিখিত “আদাবুল মাসাজিদ” নামক কিতাব দেখা যেতে পারে।