হযরতের সৌদি আরবের নাম্বার- 05 77 58 56 34

ইনশাআল্লাহ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় দাওয়াতুল হকের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ শে আগষ্ট, ২০১৯ ঈসায়ী।

হাজী সাহেবানদের জন্য এক নজরে হজের ৭ দিনের করণীয় ডাউনলোড করুন

সুখবর! সুখবর!! সুখবর!!! হযরতওয়ালা দা.বা. এর গুরুত্বপূর্ণ ২ টি নতুন কিতাব বেড়িয়েছে। “নবীজীর (সা.) নামায” এবং “খ্রিষ্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা”।  আজই সংগ্রহ করুন।

জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে প্রকাশিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার পেতে ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি এবং থেকে সংগ্রহ করুন।

www.darsemansoor.org এখন www.darsemansoor.comপরিবর্তিত হয়েছে।

হযরতওয়ালা দা.বা. কর্তৃক সংকলিত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা শাইখুল হাদীস মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর বয়ান এবং সমস্ত কিতাব, প্রবন্ধ, মালফুযাত একসাথে ১টি অ্যাপে পেতে ইসলামী যিন্দেগী অ্যাপটি আপনার মোবাইলে ইন্সটল করুন। Play Storeএবং  App Store

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবী হওয়ার পর

অন্য কোন ধর্মে মুক্তি আছে বিশ্বাস করলে ঈমান থাকবে না

সৃষ্টির শুরু থেকে মানবজাতির হিদায়াতের জন্য মহান রাব্বুল আলামীন পৃথিবীর বুকে প্রেরণ করেছেন অসংখ্য নবী-রাসূল (‘আলাইহিমুস সালাম)। নাযিল করেছেন বহু আসমানী কিতাব ও সহীফা। তাঁরা যুগে যুগে তাওহীদের বাণী প্রচার করে গেছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। পূর্বের নবীর অবর্তমানে মানুষ যে বাতিল ও মিথ্যাকে সত্য মনে করে গ্রহণ করেছিলো পরবর্তী নবী এসে মানুষের সামনে সে বাতিল ও মিথ্যার অসারতা বর্ণনা করেছেন এবং সত্যের পরিচয় তুলে ধরেছেন। একাধিক রবের ধারণা দূর করে মহান আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদের বাণী শুনিয়েছেন।

সর্বশেষ আল্লাহ তা‘আলা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাইয়্যিদুল মুরসালিন, খাতামুন্নাবিয়্যিন হিসাবে কিয়ামত পর্যন্ত মানব ও জ্বিন জাতির হিদায়াতের জন্য নবী হিসাবে পাঠিয়েছেন। সেই সাথে তার উপর নাযিল করেছেন সর্বশেষ মহাগ্রন্থ পবিত্র কুরআনে কারীম। অতএব কুরআন নাযিল হওয়ার পর যেমন অন্যান্য সকল ধর্মের কিতাব রহিত হয়ে গেছে। তেমনি শেষ নবীর আবির্ভাবের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল নবীর আনীত ধর্মও নিষিদ্ধ হয়ে গেছে এবং মুক্তির একমাত্র পথ হিসাবে ইসলাম ধর্মকেই মনোনীত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেন,

إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ

অর্থ : ‘আল্লাহর নিকট মনোনীত ধর্ম একমাত্র ইসলাম’।

উক্ত আয়াতের তাফসীরে হযরত ইবনে কাসীর রহ. লেখেন,

إخبار من الله تعالى بأنه لا دين عنده يقبله من أحد سوى الإسلام، وهو اتباع الرسل فيما بعثهم الله به في كل حين، حتى ختموا بمحمد صلى الله عليه وسلم، الذي سد جميع الطرق إليه إلا من جهة محمد صلى الله عليه وسلم، فمن لقي الله بعد بعثته محمدًا صلى الله عليه وسلم بدِين على غير شريعته، فليس بمتقبل. كما قال تعالى: وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ [آل عمران:৮৫] وقال في هذه الآية مخبرًا بانحصار الدين المتقبل عنده في الإسلام: إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإسْلامُ.

অর্থাৎ এই আয়াত দ্বারা এই সংবাদ দেয়া উদ্দেশ্য যে, আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দীন কেবল ইসলাম। আর সর্বযুগেই আল্লাহ তা‘আলার প্রেরিত নবীদের ওহীর অনুসরণ করার নাম ইসলাম। সর্বশেষ এবং সকল নবীর সমাপ্তকারী হচ্ছেন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার নবুওয়্যাতের পর আল্লাহ তা‘আলা পূর্বের সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পর কেউ যদি তার শরী‘আত ব্যতীত অন্য কোন শরী‘আত গ্রহণ করে মৃত্যুবরণ করে তা আল্লাহ তা‘আলার নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা অপর আয়াতে বলেন,

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

অর্থ: যে ব্যক্তি ইসলাম ভিন্ন অন্য কোন ধর্ম তালাশ করবে কখনো তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।

হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ. إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ এই আয়াতের অধীনে লেখেন, এই আয়াতে নাস্তিক্য চিন্তাধারার মূলোৎপাটন করা হয়েছে। বর্তমানে উদারতার নামে কুফর ও ইসলামকে এক করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং একথা প্রচার করা হচ্ছে যে, ভাল কাজ করলে ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হলে যে কোন ধর্মাবলম্বীই মুক্তি পাবে। সে ইয়াহুদী, খ্রিস্টান অথবা মূর্তিপূজারী যে ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। এই অতি উদারতা মূলত ইসলামী নীতিমালাকে বিকৃত করারই নামান্তর। কারণ, একথার সারমর্ম দাঁড়ায় এই যে, ইসলামের কোন ভিত্তি নেই। এটা একটা কাল্পনিক বিষয়, যা কুফরের পোশাকেও পাওয়া যেতে পারে।

পবিত্র কুরআনের এ দু’টি আয়াত এবং এ জাতীয় অসংখ্য আয়াত দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছে, অন্ধকার ও আলো একত্র হওয়া যেমন অসম্ভব, অনুরূপভাবে আনুগত্য ও অবাধ্যতা একই সাথে আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় হওয়া একেবারেই অযৌক্তিক ও অসম্ভব বিষয়। যে ব্যক্তি ইসলামের কোন একটি মূলনীতিও অস্বীকার করবে সে নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি বিদ্রোহী ও রাসূলগণের শত্রু। চাই সে শাখাগত আমল ও প্রথাগত চরিত্র মাধুর্যে যতই সুন্দর দৃষ্টিগোচর হোক না কেন। পরকালের মুক্তির উপায় আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্যের উপর নির্ভরশীল। যে ব্যক্তি এ আনুগত্য থেকে বঞ্চিত তার কোন কর্ম ধর্তব্য নয়। পবিত্র কুরআনে এমন লোকদের সম্পর্কেই বলা হয়েছে, فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا

অর্থ: ‘কিয়ামতের দিন আমি তাদের কোন (আমল) ওজন করার ব্যবস্থা রাখব না’।

ইসলাম একটি সার্বজনীন ধর্ম

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র সম্পর্কে তাতে দিক নির্দেশনা রয়েছে। এই আধুনিক যুগেও কুরআনের বিধান যুগোপযোগী। পক্ষান্তরে অন্যান্য ধর্মে জীবনের অনেক বিষয়েরই সমাধান নেই। আর আধুনিক বিষয়ের তো আলোচনাই নেই। এর মাধ্যমে ইসলামের সার্বজনীনতা ফুটে ওঠে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

অর্থ: আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং আমার নেয়ামতকে তোমাদের উপর পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন (ধর্ম) মনোনীত করলাম।

ইয়াহুদী ও খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা তাদের আসমানী কিতাবের বিভিন্ন বিধানকে পরিবর্তন করে ফেলেছিলো। পবিত্র কুরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা সেকথা বলেছেন। যেমন তা‘আলা পবিত্র কুরআনে বলেন,

وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

অর্থ: আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাঁকিয়ে কিতাব পাঠ করে যাতে তোমরা মনে করো তারা কিতাব থেকেই পাঠ করছে। অথচ তারা যা পাঠ করছে তা আদৌ কিতাব নয় এবং তারা বলে যে, এসব কথা আল্লাহর তরফ থেকে আগত। অথচ এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নয়। আর তারা জেনে শুনে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে।

অন্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, أَفَتَطْمَعُونَ أَنْ يُؤْمِنُوا لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

অর্থ: তোমরা কি এই আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে। যখন তাদের একদল আল্লাহর কালাম শ্রবণ করে তারপর তা জেনে বুঝে বিকৃত করে। অথচ তারা তা জানে।

অপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ

অর্থ: সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং তুচ্ছ মূল্য পাওয়ার জন্য বলে, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে। দুর্ভোগ তাদের রচনা এবং দুর্ভোগ তাদের উপার্জনের জন্য।

সহীহ বুখারীতে রয়েছে,

عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما، قال: يا معشر المسلمين، كيف تسألون أهل الكتاب، وكتابكم الذي أنزل على نبيه صلى الله عليه وسلم أحدث الأخبار بالله، تقرءونه لم يشب، وقد حدثكم الله أن أهل الكتاب بدلوا ما كتب الله وغيروا بأيديهم الكتاب، فقالوا: هو من عند الله ليشتروا به ثمنا قليلا، أفلا ينهاكم ما جاءكم من العلم عن مساءلتهم، ولا والله ما رأينا منهم رجلا قط يسألكم عن الذي أنزل عليكم.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে মুসলিম সমাজ! কি করে তোমরা আহলে কিতাবদের নিকট জিজ্ঞাসা করো? অথচ আল্লাহ তাঁর নবীর উপর যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তা আল্লাহ সম্পর্কিত নবতর তথ্য সম্বলিত। এটা তোমরা তিলাওয়াত করছ এবং এর মধ্যে মিথ্যার কোন সংমিশ্রণ নেই। তদুপরি আল্লাহ তোমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি যা লিখে দিয়েছেন আহলে কিতাবরা তা পরিবর্তন করে ফেলেছে এবং নিজ হাতে সেই কিতাবের বিকৃতি সাধন করে তুচ্ছ মূল্য পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রচার করেছে যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ। তোমাদেরকে প্রদত্ত মহাজ্ঞান কি তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করার ব্যাপারে তোমাদের বাধা দিয়ে রাখতে পারে না? আল্লাহর শপথ! তাদের একজনকেও আমি কখনো তোমাদের উপর যা নাযিল হয়েছে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে দেখিনি।

সহীহ হাদীস শরীফেও অপরাপর ধর্ম রহিত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধান পাওয়া যায়

এ বিষয়ে মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবার একটি হাদীস লক্ষ করুন,

أن عمر بن الخطاب أتى النبي صلى الله عليه و سلم بكتاب أصابه من بعض أهل الكتاب، فقال: يا رسول الله! إني أصبت كتابا حسنا من بعض أهل الكتاب، قال: فغضب، وقال: أمتهوكون فيها يا بن الخطاب! فوالذي نفسي بيده لقد جئتكم بها بيضاء نقية، لا تسألوهم عن شيء فيخبروكم بحق فتكذبوا به أو بباطل فتصدقوا به، والذي نفسي بيده لو كان موسى حيا ما وسعه إلا أن يتبعني.

অর্থ: হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রাযি. নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে কোন আহলে কিতাব (ইয়াহুদী) থেকে একটি কিতাব নিয়ে এলেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি একজন আহলে কিতাব থেকে একটি সুন্দর কিতাব পেয়েছি। (বর্ণনাকারী বলেন,) নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হযরত উমর রাযি.-এর কিতাব দেখে) রাগান্বিত হয়ে বললেন, হে উমর ইবনে খাত্তাব! এটা দেখে হয়রান হয়ে পড়েছ? যার কুদরতি হাতে আমার প্রাণ তার কসম! নিশ্চয় আমি তোমাদের নিকট স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল দীন নিয়ে এসেছি। তাদেরকে কোন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না। তাহলে (হতে পারে) তারা কোন সত্য সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করবে আর তোমরা তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। অথবা মিথ্যা সম্পর্কে অবহিত করবে আর তোমরা তা সত্য বলে মেনে নিবে। যেই সত্তার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার কসম! যদি হযরত মূসা আ. জীবিত থাকতেন তাহলে তাঁর জন্যও আমার দীনের অনুসরণ আবশ্যকীয় হতো।

এই হাদীসের আলোকে বোঝা গেল যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য ধর্মের কিতাব দেখে রাগান্বিত হয়েছেন। হাদীসের শেষে একথাও তিনি বলেছেন, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম যদি জীবিত থাকতেন তাহলে তার জন্যও আমার ধর্মের অনুসরণ ব্যতীত অন্য কোন সুযোগ থাকত না। এতে কি বোঝা যায় না যে, একজন নবী যদি নিজ ধর্ম বাদ দিয়ে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করতে বাধ্য থাকেন তাহলে অপরাপর ধর্মের অনুসারী; যারা নবী নন, তাদের বেলায় ইসলাম ধর্ম মেনে নেয়া ছাড়া মুক্তির আর কোন উপায় থাকতে পারে না।

সর্বশেষে একটি দাবির খন্ডন করা জরুরী মনে করছি। তা হলো, বর্তমানে কিছু শিক্ষিত মানুষ বলে বেড়ায়, সকল ধর্মই সঠিক। আমরা সব ধর্মকে স্বস্থানে সঠিক মনে করি। যে যার ধর্ম পালন করলে মুক্তি পেয়ে যাবে। পবিত্র কুরআনে সূরা কাফিরূনের আয়াত لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِين দিয়ে তারা এর স্বপক্ষে দলীল দিয়ে থাকে। তাদের এ দাবি একেবারেই অবান্তর। কুরআন ও হাদীসের অর্থ ও উদ্দেশ্য নেয়ার সময় সেটা যেন মনগড়া না হয়ে যায় এদিকে সকলেরই লক্ষ রাখা উচিত। কেননা নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِغَيْرِ عِلْمٍ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ

অর্থ: যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাপারে পর্যাপ্ত জ্ঞান না রেখে তাফসীর করে সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নাম বানিয়ে নেয়।

এই আয়াতের তাফসীরে হযরত মাওলানা সানাউল্লাহ পানিপথী রহ. লেখেন, ‘এই আয়াতটি মূলত পূর্ববর্তী আয়াতের বিষয়গুলোকে দৃঢ়তর করার জন্য। উদ্দেশ্য হলো, তোমরা তোমাদের ধর্ম পরিত্যাগ করবে না, আর আমরাও আমাদের ধর্ম পরিত্যাগ করব না’।

‘সবাই যার যার ধর্ম পালন করবে’ এ তাফসীর ও উদ্দেশ্য গ্রহণ করা মারাত্মক ভুল। কেননা এই আয়াত নাযিল হওয়ার পরও নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংখ্য কাফেরকে দীনের প্রতি দা’ওয়াত দিয়েছেন এবং কাফেররাও মুসলমানদেরকে ইসলাম মানার কারণে নানাভাবে নির্যাতন করেছে। সুতরাং কুরআন ও হাদীসের আলোকে উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, বর্তমান যুগে পরকালে মুক্তির জন্য ধর্ম হিসাবে ইসলাম ধর্মকেই বেছে নিতে হবে। মুক্তির পথ কেবল ইসলামই। অন্যান্য ধর্ম অনুসারীদের মুক্তির জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ব্যতীত মুক্তির অন্য কোন পথ খোলা নেই।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সঠিক বিষয় বোঝার তৌফিক দান করুন। আমীন।