হযরতওয়ালা দা.বা. এর সমস্ত কিতাব, বয়ান, প্রবন্ধ, মালফুযাত পেতে   ইসলামী যিন্দেগী  App টি এবং থেকে সংগ্রহ করুন।

www.darsemansoor.org এখন www.darsemansoor.comপরিবর্তিত হয়েছে।

হযরতওয়ালা দা.বা. কর্তৃক সংকলিত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে প্রকাশিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার পেতে ক্লিক করুন

www.darsemansoor.org এখন www.darsemansoor.com

হযরতওয়ালা শাইখুল হাদীস মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর বয়ান এবং সমস্ত কিতাব, প্রবন্ধ, মালফুযাত একসাথে ১টি অ্যাপে পেতে ইসলামী যিন্দেগী অ্যাপটি আপনার মোবাইলে ইন্সটল করুন। Play Storeএবং  App Store

কতিপয় জরুরী আমল

পূর্ণ হায়াতের জন্য করণীয় আমাল

সকল শ্রেণীর মুসলমানদের জন্য জরুরী

উভয় জগতে কামিয়াবীর জন্য হক্কানী উলামায়ে কেরাম ও বুযুর্গানে দীনের সাথে মুহাব্বত ও শ্রদ্ধা রাখা জরুরী। আল্লাহ তা‘আলাকে পাওয়া এবং হেদায়েতের উপর কায়েম থাকার জন্য আল্লাহওয়ালাদের সোহবত অপরিহার্য বিষয়। (সুরায়ে তাওবা ১১৯, সূরায়ে নাহল ৪৩)

দীনের খেদমতে নিয়োজিত উলামায়ে কেরামের কখনো সমালোচনা করবে না। এত নিজের দীন ও ঈমানের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। হ্যাঁ তাদের কোন ভুল ভ্রান্তি  থাকতে পারে, তারা তো আর ফেরেশতা নন। তবে তাদের মুরব্বীগণ তাদের সে সব ভুলের সংশোধন করবেন। এটা অন্যদের দায়িত্ব নয়। অধুনা অনেকে উলামায়ে কেরামের ভুল ধরে এবং একা একা গবেষণা করে বা আল্লাহওয়ালাদের সোহবত বঞ্চিত ইসলামী চিন্তাবিদদের অনুসরণ করে দীনদার হতে চায়। এটা গোমরাহী ও দোযখের রাস্তা। তাই এ পথ কখনো অবলম্বন করবে না।

নিঃস্বার্থ ও হক্কানী উলামায়ে কেরামের সাথে পরামর্শক্রমে নিচের কাজগুলো সারাজীবন আনজাম দিতে হবেঃ

ক. ঈমানী বিষয়ের তা‘লীমের মাধ্যমে নিজের ঈমান ও আক্বীদা বিশ্বাসকে সঠিক করতে হবে এবং ঈমানকে কুফরী ও শিরকী বিশ্বাস থেকে হেফাজত করতে হবে এবং ঈমানী দাওয়াতের মাধ্যমে ঈমানকে মজবুত ও পোক্তা করতে হবে। (সূরায়ে নিসা ১১৫, সূরায়ে বাকারা ১৩)

খ. ইবাদাত তথা নামায, রোযা, কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত, যাকাত, হজ্জ্ব ইত্যাদি ইবাদাতসমূহ সুন্নাত মুতাবিক সুন্দরভাবে করতে হবে। এর জন্য হক্কানী আলেমদের মজলিসে শরীক হয়ে নামায ও অন্যান্য আমলের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। (সূরায়ে আলে ইমরান ৩১, তিরমিযী ২৬৭৮, মুয়াত্তা মালেক ৪৩৩)

গ. মু‘আমালাত তথা হালাল রিযিকের পাবন্দী করবে। সুতরাং ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, কৃষিজীবীসহ সকল স্তরের উপার্জনকারী স্ব-স্ব পেশার হালাল-হারাম কোন হক্কানী মুফতী থেকে ভালভাবে জেনে নিবে। কারো ইনতিকাল হলে মীরাছ বণ্টনে দেরী করবে না, তার কোন ইয়াতীম বাচ্চা থাকলে তার অংশ খুব হেফাজত করবে, তার মাল খাওয়া থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকবে। হালাল রিযিক ইবাদতের দিকে ধাবিত করে আর হারাম রিযিক গোনাহের দিকে ধাবিত করে। (সূরায়ে মুমিনূন-৫১, সূরায়ে বাকারাহ-১৬৮)

ঘ. মু‘আশারাত তথা বান্দার হক বিশেষ করে পিতা-মাতা, বিবি বাচ্চা ও অন্যান্যদের হক হক্কানী উলামায়ে কেরাম থেকে জেনে নিয়ে তা পরিপূর্ণভাবে আদায় করবে। কারো হক নষ্ট করবে না। কাউকে অনর্থক কষ্ট দিবে না। এমনকি জীব-জন্তুকে কষ্ট দেয়া থেকেও বিরত থাকবে। নিজের হক উসুলের তুলনায় অন্যের হক আদায় করাকে প্রাধান্য দিবে। আল্লাহর হক আল্লাহ হয়তো মাফ করে দিবেন কিন্তু বান্দার হক তিনি মাফ করবেন না। হাশরের ময়দানে পাওনাদারকে নেকী দিতে হবে কিংবা তার গোনাহের বোঝা বহন করতে হবে। (সূরায়ে নিসা ৩৬, বুখারী শরীফ ৬৪৮৪)

ঙ. তাযকিয়াহ তথা আত্মশুদ্ধির ফিকির রাখবে। কুরআনে কারীমে আত্মশুদ্ধির গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে যত কসম ব্যবহৃত হয়েছে অন্য কোন হুকুমের ব্যাপারে তা হয়নি। সুতরাং অন্তরের দশটি মন্দ স্বভাব তথা আধ্যাত্মিক রোগ বা গুনাহ সংশোধনের মাধ্যমে যাবতীয় গুনাহ পরিত্যাগ করার জন্য এবং অন্তরের দশটি ভাল স্বভাব অর্জনের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট কোন আল্লাহওয়ালা শাইখের সাথে সরাসরি অথবা চিঠিপত্রের মাধ্যমে ইসলাহী সম্পর্ক রাখাকে ফরয মনে করবে। এবং সুযোগমত তাদের মজলিসে বসতে চেষ্টা করবে। (সূরায়ে শামস-৯-১০, মুসলিম শরীফ হাঃ নং ১৫৯৯)

* এই পাঁচটি বিষয়ের ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরযে আইন এবং এ পাঁচ বিষয়ের উপর আমলকারীকে মুত্তাকী বা আল্লাহওয়ালা বলা হয় এবং প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য আল্লাহওয়ালা হওয়া ফরয। (বাকারা-১৭৭)

আল্লাহর দীনের জন্য সময় ফারেগ করা

উল্লেখিত পাঁচটি বিষয়ের উপর আমল করার লক্ষ্যে সারা জীবন দাওয়াত, তা‘লীম, তাযকিয়াহ-এই তিন প্রকার মেহনতের জন্য সময় বের করবে। এর কোন একটির জন্য মেহনত করাকে যথেষ্ট মনে করবে না। এ তিনটির ব্যাখ্যা হক্কানী উলামায়ে কেরাম থেকে জেনে নিবে। (বাকারা-১২৯, আলে ইমরান-১৬৪)

দৈনন্দিন আমল

জামাআতের সাথে নামায আদায় করা

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায জামা‘আতের সাথে আদায় করবে। জামা‘আতের সাথে নামায পড়া ওয়াজিব। জামা‘আত তরককারী ফাসিক হিসেবে গণ্য হবে। তাহাজ্জুদ সহ অন্যান্য নফল নামায পড়বে। মহিলাদের জন্য বিনা উযরে মসজিদে গিয়ে জামা‘আতে শরীক হওয়া নাজায়িয ও গুনাহ। (বাকারা-৪২, বুখারী-৯৬)

গুনাহ বর্জন

শিরক বিদ‘আত ও গুনাহ থেকে কঠোরভাবে বেঁচে থাকবে। একটি গুনাহই মানুষকে দোযখে নিয়ে যেতে পারে। নেক কাজ দুধের মত আর গুনাহ হল বিষের মত। উভয়টি একত্রিত হলে বিষের ক্রিয়াই প্রকাশ পায়। (আনআম-১২০, মিশকাত-২২৮)

সুন্নাতের অনুসরণ

প্রতিটি কাজ নবীজীর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাত অনুযায়ী করার জন্য সুন্নাত শিখতে থাকবে, সুন্নাতের প্রশিক্ষণ নিবে এবং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সহজ সুন্নাতকে (তথাঃ ক. পরস্পর সালাম আদান প্রদান। খ. উপরে উঠতে আল্লাহু আকবার বলা। নিচে নামতে সুবহানাল্লাহ বলা। সমতলে চলতে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র যিকির করা। গ.প্রত্যেক ভাল কাজে ডানকে প্রাধান্য দেওয়া। নিম্ন কাজে বামকে প্রাধান্য দেওয়া) আমলে আনবে। যাতে করে অবশিষ্ট সকল সুন্নাতের উপর আমল করা সহজ হয়ে যায়। (আলে ইমরান-৩১)

কুরআন শরীফ তিলাওয়াত

কুরআনে কারীমের সহীহ শুদ্ধ তিলাওয়াত করবে। এটা ফরয। সূরা কিরা‘আত অশুদ্ধ তিলাওয়াত করা বড়ই আফসোসের বিষয়। ফরয তরককারী কখনো আল্লাহর ওলী হতে পারে না। প্রতিদিন এক পারা করে কুরআন তিলাওয়াত করতে চেষ্টা করবে। এজন্যই কুরআনকে ত্রিশ পারায় বিভক্ত করা হয়েছে। যারা হাফেয তারা তিন পারা করে তিলাওয়াত করবে। তবে সাধারণ অবস্থায় সাত দিন বা তিন দিনের কমে খতম করবে না। কেননা, হাদীস শরীফে তাড়াহুড়া করে খতম করতে নিষেধ করা হয়েছে। বাদ ফজর সূরায়ে ইয়াসীন, বাদ মাগরিব সূরায়ে ওয়াক্বিয়াহ ও শোয়ার পূর্বে সূরায়ে মুলক তিলাওয়াত করবে। (আবু দাউদ-১৩৮৮)

ফরয নামাযের পরে ওজীফা পড়বে

প্রত্যেক ফরয নামাযের পরে তিনবার ইস্তিগফার পড়বে। (তাবারানী কাবীর-৮৫৪১)

أَسْتَغْفِرُ الله الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

এবং এ দু‘আটি পড়লেও ভাল হয়। (বুখারী শরীফ-১/১১৭)

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

আরো কিছু দু‘আ কালাম আছে যা ফরযের পর সুন্নাত ও নফল থাকলে, সুন্নাত ও নফলের পরে পড়বে। আর সুন্নাত নফল না থাকলে ফরযের পরে পড়বে।

(ক) আয়াতুল কুরসী, একবার। (নাসাঈ-৯৮৪৮)

(খ) সূরা ফালাক, সূরা নাস-তিনবার করে, এর সাথে সূরায়ে কাফিরুন ও ইখলাস মিলিয়ে নিলে ভাল। (তিরমিযী-২৯০৩)

(গ) তাসবীহে ফাতেমী একবার। (৩৩ বার سُبحَا نَ ا لله, ৩৩ বার اَلحَمدُ لِلّهِ, ৩৪ বার اَللهُ اَكبَر) (মুসলিম ৫৯৭)

এগুলো পাঁচ ওয়াক্তেই পড়বে। শুধু ফজর ও মাগরিবে এ তিনটির আগে নিচের দুটি পড়বে।

(ঘ) اللَّهُمَّ أجِرْنِي مِنَ النَّارِ

(ঙ) ফজর ও মাগরিবের পর পড়বে-৩ বার اعوذ بالله السميع العليم من الشيطان الرجيم পড়ে, বিসমিল্লাহ পড়ার পর ১ বার سورة الحشر এর শেষ ৩ আয়াত পড়বে। (তিরমিযী, ২:১২০)

বিঃদ্রঃ হাদীসে আরো কিছু দু‘আ আছে, সুযোগ হলে সেগুলোও পড়বে। জুমু‘আর দিন আসরের পরে এই দুরুদটি ৮০ বার পড়বে।

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍن النَّبِيِّ الأُمَّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسلم تَسْلِيمًا

* তাছাড়া প্রতিদিন যে কোন সময় একশবার দুরূদ শরীফ পড়বে। (আদদুররুল মানদূদ-১৬০)

* প্রতিদিন মুনাজাতে মকবূল থেকে এক মনযিল পাঠ করতে চেষ্টা করবে।

* আল্লাহ তা‘আলার যিকির করবে

* তাহাজ্জুদের পরে বা ফজরের পরে অথবা যখন সুযোগ হয় আসন দিয়ে বসবে। তারপরে কয়েকবার ইস্তিগফার ও কয়েকবার সহীহ দরূদ শরীফ পড়বে। (ইবনে হিব্বান-৮১৭)

* তারপরে কসদুস সাবীলের বর্ণনা অনুযায়ী যিকির করবে। যিকিরের সময় শরীর সামান্য হেলাবে। যথেষ্ট পরিমাণ সময় না পেলে বা অন্য কোন সমস্যা হলে বার তাসবীহ এর যিকির করবে।

* বার তাসবীহ এর যিকিরের বিবরণ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ২০০ বার (১০/১৫ বার পর পর পূর্ণ কালেমা)

ইল্লাল্লাহ ৪০০ বার। (প্রত্যেকটায় একবার পরে শ্বাস ফেলবে।)

আল্লাহু আল্লাহ ৬০০ বার। (প্রথমটার শেষে পেশ।)

আল্লাহ ১০০ বার। (শেষে সাকিন।)

কুরআন ও সুন্নাহয় কালিমায়ে তায়্যিবাহ

আল কুরআনে ‘‘কালিমায়ে তায়্যিবাহ’’ :

‘‘কালিমায়ে তায়্যিবাহ’’ এর প্রথম অংশটি ‘সূরা সাফফাত’ এর ৩৫ নং আয়াত এবং দ্বিতীয় অংশটি ‘সূরা ফাত্হ’ এর ২৯ নং আয়াতে বিদ্যমান রয়েছে।

﴿إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ يَسْتَكْبِرُونَ﴾ [سورة الصافات [৩৫:

﴿مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ﴾ [سورة الفتح[২৯:

হাদীস শরীফে ‘‘কালিমায়ে তায়্যিবাহ” :

(১) عن عبد اللَّه بن بريدة رضي الله عنه عن أبيه قال: انطلق أبو ذر ونعيم ابن عم أبي ذر وأنا معهم يطلب رسول الله – صلّى الله عليه وآله وسلّم – وهو مستتر بالجبل فقال له أبو ذر: يا محمد، أتيناك لنسمع ما تقول، قال: «أقول لا إله إلا الله محمد رسول الله»، فآمن به أبو ذر وصاحبه .  (الإصابة : 6/365)

অনুবাদ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদা তাঁর পিতা বুরাইদা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবু যর ও তার চাচাতো ভাই নুআঈম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খোঁজে বের হলেন। আমিও তাদের সাথে ছিলাম। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন পাহাড়ের আড়ালে ছিলেন। (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পেয়ে) আবু যর রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার নিকট এসেছি আপনি কী বলেন তা শোনতে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমি বলি لا إله إلا الله محمد رسول الله [লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ]।’ অতঃপর আবু যর ও তার সঙ্গী তাঁর উপর ঈমান আনল। [আল ইসাবা, ইবনে হাজার: ৬/৩৬৫। হাদীসটির সনদ সহীহ]

  (২) عن ابن عباس رضي الله عنه قال: «كانت راية رسول الله صلى الله عليه وسلم سوداء ولواؤه أبيض، مكتوب عليه: لا إله إلا الله محمد رسول الله» . لا يروى هذا الحديث عن ابن عباس إلا بهذا الإسناد، تفرد به: حيان بن عبيد الله.  (رواه الطبراني في المعجم الأوسط : 219)

অনুবাদ: হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঝাণ্ডা ছিল কালো এবং পতাকা ছিল সাদা রঙের। এই পতাকায় লেখা ছিল لا إله إلا الله محمد رسول الله [লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ]। [আল মুজামুল আওসাত ত্ববারানী, হাদীস: ২১৯। হাদীসটির সনদ সহীহ]

  (৩)عن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان فص خاتم النبي صلى الله عليه وسلم حبشيا، وكان مكتوبا عليه: «لا إله إلا الله محمد رسول الله، لا إله إلا الله سطر، ومحمد سطر، ورسول الله سطر»(رواه أبو الشيخ في أخلاق النبي : 335) 

অনুবাদ: হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আংটির পানরটি ছিল আবিসিনীয়া এলাকার। আর তার উপর লেখা ছিল لا إله إلا الله محمد رسول الله [লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ]। (উপরের) প্রথম লাইন ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’, দ্বিতীয় লাইন ‘‘মুহাম্মাদ’’ তৃতীয় লাইন ‘‘রাসূলুল্লাহ’’। [আখলাকুন নবী, আবুশ শাইখ আল আসবাহানী, হাদীস: ৩৩৫। হাদীসটির সনদ সহীহ]

 (৪)عن ابن عباس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم حدثه، قال: «من خالف دين الله من المسلمين فاقتلوه، ومن قال: لا إله إلا الله، محمد رسول الله، فلا سبيل لأحد عليه، إلا من أصاب حدا، فإنه يقام عليه». (رواه أبو الشيخ الأصبهاني في طبقات المحدثين : 232)

অনুবাদ: হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে মুসলমান আল্লাহর দ্বীনের বিরোধিতা করবে (অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম অস্বীকার করবে) তাকে তোমরা হত্যা করে ফেলো। আর যে لا إله إلا الله محمد رسول الله [লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ] বলবে তাকে কিছু বলার অধিকার কারো নেই। তবে কোন দণ্ডের উপযুক্ত হলে তা তার উপর কার্যকর করা হবে।’ [ত্ববাকাতুল মুহাদ্দিসীন, আবু শাইখ আল আসবাহানী, হাদীস: ২৩২। হাদীসটির সনদ সহীহ]

 (৫)عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لما عرج بي إلى السماء دخلت الجنة فرأيت في عارضي الجنة ثلاثة أسطر مكتوبات بالذهب: الأول لا إله إلا الله محمد رسول الله، والثاني وجدنا ما قدمنا وربحنا ما أكلنا وخسرنا ما تركنا، والثالث أمة مذنبة ورب غفور». رواه الرافعي وابن النجار كما قال السيوطي في الجامع الصغير  : (6808) ورمز له بالصحة. وذكره السبكي في طبقات الشافعية: 1/150 بإسناد الديلمي.

অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘মেরাজের রাত্রে আমি বেহেশতে প্রবেশের প্রাক্কালে তার দুই পাশে স্বর্ণাক্ষরে লেখা তিনটি লাইন দেখতে পাই:

এক. لا إله إلا الله محمد رسول الله [আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল]।

দুই. وجدنا ما قدمنا وربحنا ما أكلنا وخسرنا ما تركنا [আমরা যা (ভালো কর্ম) পেশ করেছি তা পেয়েছি, আর যা খেয়েছি তা থেকে উপকৃত হয়েছি, যা ছেড়ে এসেছি সে ব্যাপারে তা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি]।

তিন. أمة مذنبة ورب غفور [উম্মত হল গুনাহগার আর রব হলেন ক্ষমাশীল]।

[তবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ: ১/১৫০। ইমাম সুয়ূতী তাঁর জামেউস সগীরে (৬৮০৮) নং হাদীসে আল্লামা রাফেয়ী ও ইবনে নাজ্জারের হাওয়ালায় উল্লেখ করে বলেন, হাদীসটি সহীহ]।

খ্রিস্টানদের চক্রান্ত ও অপব্যাখ্যা থেকে সাবধান

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় একদল কুচক্রি খ্রিস্টানদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে চিরমুক্তির আশায় অনেকে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করছে। অনেক মুসলমানও ঈসায়ী মুসলিম নামধারণ করে খ্রিস্টান হয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস ঐ সরলমনা মুসলমানরা খ্রিস্টচক্রের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়েই ইসলাম ত্যাগ করে ঈসায়ী মুসলিম হয়েছে। কারণ, খাঁটি মুসলমান জীবন বিলিয়ে হলেও ঈমান হেফাজত করে থাকে। খ্রিস্টানদের অপপ্রচারে আর কোনো মুসলমান যেন বিভ্রান্ত না হয় এবং যারা ইতিমধ্যে খ্রিস্টানদের ফাঁদে পা দিয়েছে তারা যেন পুনরায় ইসলাম ধর্মে ফিরে আসতে পারে, সেজন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পরে ইসলাম ছাড়া অন্য সব ধর্ম রহিত হয়ে গেছে। তাই এখন তাঁর আনীত ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই পরকালে মুক্তি পাওয়া যাবে। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে বিশ্বাস করলে পরকালে মুক্তি পাওয়া যাবে না; বরং ইসলাম ধর্ম না মানার অপরাধে চিরকাল তাকে জাহান্নামের কঠিন আগুনে জ্বলতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা আল-কুরআনের সূরা আল ইমরানের ৮৫ নং আয়াতে স্পষ্টভাষায় বলে দিয়েছেনঃ     ومن يبتغِ غير الاسْلاَم دينا فلن يقبل منه و هو فى الاخرة من الخسرين

যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম পালন করবে তা কখনো তার থেকে গ্রহণ করা হবে না, আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ এই সূরারই ১৯ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ان الدين عند الله الاسلام ‘নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র ধর্ম’

এই দুই আয়াত দ্বারা একথা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে গেল যে, কিয়ামত পর্যন্ত ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়। অতএব, যারা পরকালে চিরমুক্তির আশায় ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম পালন করছেন তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, আপনারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে চিরমুক্তি ও শান্তির পথে প্রবেশ করুন। কুরআন শরীফের অনেক আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা খ্রিস্টান ও ইয়াহুদীদেরকে মুসলমান হতে বলেছেন। মুসলমান না হলে তাদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির হুমকি দিয়েছেন।

নিম্নে এ বিষয়ের কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করা হলোঃ

১. ولو امن اهل الكتب لكان خيرا لهم ‘ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা যদি প্রকৃত মুসলমান হতো, তাহলে তা তাদের জন্য ভালো হতো’ (সূরা আল ইমরান ১১০)

২. ياهل الكتب لم تكفرون بايت الله وانتم تشهدون ‘হে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করো, যখন তোমরাই সাক্ষ্য বহন করো’ (আল ইমরানঃ ৭০) অর্থাৎ ইয়াহুদী-খ্রিস্টানগণ এই সাক্ষ্য দেয় যে তাওরাত ও ইঞ্জিল আল্লাহর কিতাব । আর ঐ উভয় কিতাবে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়াতের এবং তার উপর অবতীর্ণ কুরআনের সত্যতা ও তাঁর আগমন বার্তা বর্ণিত ছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম  এবং কুরআনকে মানতে অস্বীকার করে তারা বস্তুত তাওরাত ও ইন্জীলকে অস্বীকার করছে। তারা তাওরাত ও ইন্জীলের পাঠ বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তন ও বিকৃত করেছে। (আল-কুরআনুল কারীম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃ.৮৮)

৩. قل ياهل الكتب لم تكفرون بايت الله والله شهيد على ما تعملون ‘হে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে কেন অস্বীকার করো? অথচ তোমরা যা করো আল্লাহ তার উপর সাক্ষী’ (আল ইমরানঃ ৯৮)

৪. ولو ان اهل الكتب امنوا واتقوا لكفرنا عنهم سياتهم… ‘ইয়াহুদী-খ্রিস্টানরা যদি প্রকৃত মুসলমান হতো এবং ভয় করতো, তাহলে আমি অবশ্যই তাদের পাপসমূহ মোচন করতাম এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে সুখময় জান্নাতে প্রবেশ করাতাম’ (মায়িদাঃ ৬৫) উল্লেখ্য, এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে, খ্রিস্টানদের জন্য পাপ মোচনের একমাত্র মাধ্যম হলো মুমিন-মুসলমান হওয়া। প্রকৃত মুসলমান না হলে পরকালে তারা মুক্তি পাবে না।

৫. ان الذين كفروا من اهل الكتب والمشركين فى نار جهنم… ‘ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে যারা কুফুরী করে (তথা মুসলমান হয় না) তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে, তারাই সৃষ্টির অধম।’ (বাইয়িনাতঃ ৬)

৬. وما امروا الا ليعبدوا الله مخلصين له الدين… ‘ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে আদেশ করা হয়েছিল যাতে তারা আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তার ইবাদত করে এবং সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়, এটাই সঠিক দ্বীন।’ (বাইয়িনাতঃ ৫) উল্লেখ্য, এই সঠিক দ্বীনের নামই ইসলাম।

৭. يايها الذ ين اوتوا الكتب امنوا بما نزلنا مصدقا لما معكم… ‘হে ইয়াহুদী-খ্রিস্টানগণ! তোমাদের নিকট যা আছে তার সমর্থকরূপে আমি যা অবতীর্ণ করেছি (অর্থাৎ আল-কুরআন) তার প্রতি তোমরা ঈমান আনো।’ (নিসাঃ ৪৭)

৮. ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা মুসলমানদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন,يا يها الذ ين امنوا ان تطيعوا فريقا من الذ ين اوتوا الكتب يردوكم  بعد ايمانكم كفرين

‘হে মুমিনগণ! তোমরা যদি ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের দলবিশেষের আনুগত্য করো তাহলে তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার কাফের বানিয়ে ছাড়বে।’ (আল ইমরান ১০০)

উপরিউক্ত আয়াতসমূহ দ্বারা তিনটি বিষয় প্রমাণিত হলঃ

১. হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবী হওয়ার পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম আল্লাহ তা‘আলার নিকট গ্রহণযোগ্য নয় ।

২. অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মত খ্রিস্টানদেরকেও মুসলমান হতে হবে। মুসলমান না হলে তারা পরকালে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাবে না; বরং চিরকাল জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে।

৩. খ্রিস্টানদের একটা দল কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকবে। মুসলমানদের মধ্য থেকে যারা তাদেরকে মানবে, তারা ঐ মুসলমানদেরকে বিভিন্নভাবে প্রতারিত করে কাফের বানিয়ে ছাড়বে।

অতএব, হে সরলমনা মুসলিম ভাই ও বোনেরা! আপনারা কুচক্রি খ্রিস্টানদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না কিংবা সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে নিজের অমূল্য ঈমান খ্রিস্টানদের হাতে বিলিয়ে দিবেন না। ‘ঈসায়ী মুসলিম’ হয়ে কিংবা ‘আহলে কুরআন’ হয়ে নিজের ঈমানকে ধ্বংস করবেন না। ঈমান অমূল্য সম্পদ। যারা মুসলমান অবস্থায় সামান্য ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে, তাদেরকেও আল্লাহ তা‘আলা এই পৃথিবীর ১১ টি পৃথিবীর সমান সুবিশাল জান্নাত দান করবেন। সেই জান্নাতে আপনি যা চাবেন তাই পাবেন। কিন্তু কেউ যদি ঈমান হারা হয়ে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, তাহলে তাকে জাহান্নামের ভয়ংকর আগুনে চিরকাল জ্বলতে হবে। সেই আগুনের জ্বলন সহ্য করার মতো ক্ষমতা কারো থাকবে না। কুরআনের শতশত আয়াত এ ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।

অনুরোধ করছি, কুরআন বা ইসলাম সম্পর্কে কেউ কোনো নতুন কথা বললে তার কথা যাচাই না করেই বিশ্বাস করবেন না; বরং এ ধরণের কোনো কথা শুনলে কওমী মাদরাসার ভালো কোনো আলেমের কাছে জিজ্ঞেস করে নিবেন যে, কথাটি ঠিক না বেঠিক । যে কারো কথা বিশ্বাস করে নিজের ঈমানকে ধ্বংস করবেন না। মুসলমান না হলে যখন খ্রিস্টানরাই মুক্তি পাবে না তখন আপনি খ্রিস্টান হয়ে বা ঈসায়ী মুসলিম হয়ে কীভাবে মুক্তির আশা করতে পারেন? মনে রাখবেন, ঈসায়ী মুসলিম এবং আহলে কুরআন মূলত পাক্কা খ্রিস্টান।

নিম্নে এমন কয়েকটি আয়াত সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে, যার অপব্যাখ্যা করে খ্রিস্টানরা সরলমনা মুসলমানদেরকে ঈসায়ী মুসলিম বা আহলে কুরআন নামে খ্রিস্টান বানানোর অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।

১. সূরা মায়েদার ৬৮ নং আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে খ্রিস্টান প্রতারক চক্র বলে থাকে, ‘এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মুসলমানদেরকে তাওরাত ও ইনজীল প্রতিষ্ঠা ও অনুসরণ করতে বলেছেন। অতএব, তোমরা তাওরাত ও ইনজীল প্রতিষ্ঠা করো এবং ঈসায়ী মুসলিম হয়ে যাও। অন্যথায় তোমরা মুক্তি পাবে না।’

আমি সূরা মায়েদার ৬৮ নং আয়াতের মূলপাঠ নিম্নে উল্লেখ করে সরল অনুবাদ তুলে ধরছিঃ

قل ياهل الكتب لستم على شيء حتى تقيموا التوراة والانجيل وما انزل اليكم من ربكم وليزيدن كثيرا منهم ما انزل اليك من ربك طغيانا وكفرا فلا تأس على القوم الكفرين

‘হে নবী! আপনি বলুন, হে ইয়াহুদী- খ্রিস্টানগণ তাওরাত-ইনজীল ও যা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে (তথা কুরআন) তোমরা তা প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত তোমাদের কোনো ভিত্তি নেই। আপনার প্রতিপালকের নিকট থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা (কুরআন) তাদের অনেকের ধর্মদ্রোহিতা ও অবিশ্বাসই বাড়াবে। সুতরাং আপনি কাফের সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করবেন না।’

সূরা মায়েদার ৬৮ নং আয়াতের মূলপাঠ ও অনুবাদ উল্লেখ করা হলো। প্রিয় পাঠক! আপনিই বলুন, এই আয়াতের কোন স্থানে আল্লাহ তা‘আলা মুসলমানদেরকে তাওরাত-ইনজীল অনুসরণ ও প্রতিষ্ঠা করতে বলেছেন? এই আয়াতে তো আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদেরকে তাওরাত-ইনজীলের সাথে সাথে কুরআন মানতে বলেছেন (আর একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কুরআন মানলে ও প্রতিষ্ঠা করলে তাদেরকে অবশ্যই মুসলমান হয়ে যেতে হবে।) এবং কুরআন না মানলে তাদের ধর্মদ্রোহিতা বৃদ্ধি পাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাহলে কোন যুক্তিতে তারা এই আয়াত বলে মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিতে পারে? আর আমরাই বা কেমন মুসলমান যে, যে যা বলে তাই মেনে দুনিয়ার লোভে পড়ে ঈমান হারা হয়ে যাচ্ছি। আসল মুসলমান কারো সাথে প্রতারণা করে না এবং প্রতারণার শিকারও হয় না। আমরা মুসলমানরাই দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ রয়ে যাচ্ছি। আর এই অজ্ঞতার সুযোগে খ্রিস্টানরা আমাদের মুসলমান ভাই-বোনদের ঈমান ধ্বংস করছে। অথচ যথেষ্ট পরিমাণ দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা সকল মুসলমানের উপর ফরয । এই ফরযের প্রতি অবহেলার কারণেই খ্রিস্টানরা আমাদেরকে সহজেই বোকা বানাতে পারছে। বর্তমানে প্রতিদিন ইউরোপ-আমেরিকাতে শত শত খ্রিস্টান কুরআনের সত্যতা অনুধাবন করে মুসলমান হচ্ছে। আর বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম দেশে মুসলমানরা খ্রিস্টান হয়ে যাচ্ছে, এর চেয়ে বড় আফসোসের কথা আর কী হতে পারে? আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে প্রয়োজন পরিমাণ দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার তাওফিক দান করুন এবং খ্রিস্টান প্রতারক চক্রের প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে হেফাজত করুন।

২. দ্বিতীয় যে বিষয়টি বলে তারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে তা এই যে, তারা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলে, কুরআনে বলা হয়েছে ‘আল্লাহর বাণী কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।’ (সূরা ইউনুসঃ ৬৪, সূরা আনআমঃ১১৫,৩৪, সূরা কাহাফঃ ২৭) আর তাওরাত-ইনজীল যেহেতু আল্লাহর বাণী তাই এতেও কোনো পরিবর্তন হতে পারে না। অতএব সবাইকে তাওরাত ইনজীল মানতে হবে। তথা ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান হতে হবে।

প্রিয় পাঠক! ‘আল্লাহর বাণী পরিবর্তন হওয়ার নয়’ এই আয়াতে আল্লাহর বাণী দ্বারা তাওরাত-ইনজীল উদ্দেশ্য নয়; বরং আল্লাহর বাণী দ্বারা একেক আয়াতে একেক অর্থ উদ্দেশ্য। তাফসীরের কিতাবের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ তাফসীরের কিতাব ইবনে কাসীর রহ. কর্তৃক প্রণীত ‘তাফসীরুল কুরআনিল আজীম’ এর উদ্ধৃতিতে আমরা ‘আল্লাহর বাণী পরিবর্তন হওয়ার নয়’ এই আয়াতের মর্ম নিম্নে উল্লেখ করছি।

সূরা আনআমের ৩৪ নং আয়াতে বিভিন্ন বালা-মুসিবাতে আল্লাহ তা‘আলা নবী-রাসূলগণকে সাহায্য করেছেন একথা উল্লেখ করে বলেন ‘কেউ আমার বাণী পরিবর্তন করতে পারবে না।’ ইবনে কাসীর রহ. এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,

ولا مبدل لكلمات الله اى التى كتبها بالنصر فى الدنيا و الاخرة لعباده المؤمنين

‘মুমিন বান্দাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে সাহায্য করা হবে বলে যে ওয়াদা আল্লাহ তা‘আলা করেছেন তা কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা সূরা সাফ্ফাত এর ১৭১-১৭৩ নং আয়াতে বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা নবী-রাসূল ও মুমিন বান্দাদেরকে অবশ্যই সাহায্য করবেন’ এই ওয়াদা (বাণী) কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।’ এখানে বাণী দ্বারা কুরআনে মুমিন বান্দাদের জন্য কৃত আল্লাহর ওয়াদা উদ্দেশ্য।

আর সূরা আনআমের ১১৫ নং আয়াতের শুরুতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন ‘সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে তোমার প্রতিপালকের বাণী পরিপূর্ণ হয়েছে’ এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তাঁর বাণী কেউ পরিবর্তন করার নেই’ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসীর রহ. বলেন, اى ليس احد يعقب حكمه تعالى لافى الدنيا ولا فى الاخرة

‘এমন কেউ নেই যে আল্লাহর হুকুম পাল্টাতে পারে- না দুনিয়াতে না আখিরাতে ।’ বুঝা গেল যে, এই আয়াতে আল্লাহর বাণী দ্বারা আল্লাহর হুকুম তথা কুরআন উদ্দেশ্য।

আর সূরা ইউনুসের ৬৪ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে মুমিন মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন ‘لاتبديل لكلمات الله’ ‘আল্লাহর বাণীসমূহের কোনো পরিবর্তন নেই।’ এই আয়াতের মর্ম সম্পর্কে তাফসীরে ইবনে কাসীরে বলা হয়েছেঃ

 لاتبديل لكلمات الله اى هذا الوعد لايبدل ولايخلف ولايغير بل هو مقرر مثبت كائن لا محالة ‘আল্লাহর বাণীসমূহের কোনো পরিবর্তন নেই অর্থাৎ (মুমিনদের জন্য) আল্লাহ তা‘আলা যে ওয়াদা করেছেন তা পরিবর্তন করা হবে না, ভঙ্গ করা হবে না এবং তার বিপরীত কিছু করা হবে না; বরং এই ওয়াদা সুনির্ধারিত ও সুসাব্যস্থ এবং তা  অনিবার্যভাবে সংগঠিত হবে।’ এই আয়াতেও আল্লাহর বাণী দ্বারা মুমিনদের সাথে কুরআন শরীফে কৃত আল্লাহ তা‘আলার ওয়াদা উদ্দেশ্য।

আর সূরা কাহাফের ২৭ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কুরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়ে বলেন, لا مبدل لكلماته ‘তাঁর বাণীসমূহের কোনো পরিবর্তনকারী নেই’ তাফসীরে ইবনে কাসীরে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে

يقول تعالى امرا رسوله صلى الله عليه وسلم بتلاوة كتابه العزيز وابلاغه الى الناس لامبدل لكلماته اى لامغير لها ولا محرف ولامزيل

‘আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় রাসূলকে নিজের প্রিয় কিতাব তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তাঁর বাণীসমূহের কোনো পরিবর্তনকারী নেই’ অর্থাৎ এই কুরআনের মধ্যে কেউ কোনো ধরণের পরিবর্তন, বিকৃতি ও বিলুপ্তি ঘটাতে পারবে না।’ এই আয়াতে আল্লাহর বাণী দ্বারা কুরআন মাজীদ উদ্দেশ্য।

প্রিয় পাঠক! কুরআন শরীফ ও কুরআনের বিশুদ্ধ তাফসীর দ্বারা এ কথা প্রমাণিত হয়ে গেল যে, ‘আল্লাহর বাণী পরিবর্তন হওয়ার নয়’ এই আয়াতে আল্লাহর বাণী দ্বারা তাওরাত-ইনজীল উদ্দেশ্য নয়। তাছাড়া এই আয়াতে তাওরাত-ইনজীল উদ্দেশ্য হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। কারণ, কুরআনের মধ্যে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, ইয়াহুদী-খ্রিস্টানরা তাদের কিতাব তাওরাত-ইনজীল নিজেদের ইচ্ছা মতো পরিবর্তন করেছে। যেমন সূরা বাকারার ৯ নং রুকুতে আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের বদকর্মের আলোচনা করতে গিয়ে ৭৯ নং আয়াতে বলেন, فويل للذين يكتبون الكتب بايديهم…… ‘সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে অতঃপর তুচ্ছ মূল্য প্রাপ্তির আশায় বলে, এটা আল্লাহর নিকট হতে এসেছে।’ অতএব, কুরআন দ্বারাই এ কথা প্রমাণিত হলো যে, ইয়াহুদী-খ্রিস্টানরা দুনিয়াবী স্বার্থে তাদের কিতাব পরিবর্তন করেছে। এখন আপনিই বলুন ‘আল্লাহর বাণী পরিবর্তন হওয়ার নয়’ এই আয়াতে আল্লাহর বাণী দ্বারা কীভাবে তাওরাত-ইনজীল উদ্দেশ্য হতে পারে?

খ্রিস্টানরা যদিও আরো কয়েকটি আয়াতের অপব্যাখ্যা করে মুসলমানদেরকে ঈমান হারা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত পরিচয় দীর্ঘ আলোচনা করা সম্ভব নয়। আমরা মনে করি খ্রিস্টচক্রকে প্রতিহত করার জন্য সূরা আল ইমরানের ৮৫ নং আয়াত মনে রাখাই মুসলমানদের জন্য যথেষ্ট। কারণ, এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, ومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه وهو فى الاخرة من الخسرين.

‘কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

অতএব, হে মুসলিম ভাই ও বোনেরা! কোনো প্রতারক যদি আপনাকে কুরআনের কথা বলে বা অন্য কোনো কিছুর কথা বলে নতুন কোনো মতবাদ গ্রহণ করার দাওয়াত দেয় তাহলে আপনি তা গ্রহণ করবেন না। আপনি সূরা আল ইমরানের ৮৫ নং আয়াত মনে রাখুন এবং যেকোনো মূল্যে মৃত্যু পর্যন্ত খাঁটি মুসলমান হিসেবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করুন। ঈমান বাঁচানোর জন্য জান-মাল কুরবানী করার প্রয়োজন হলে জান-মাল কুরবানী করে দিবেন কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ঈমান বিলিয়ে দিবেন না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে খাঁটি ঈমান ও ইসলাম নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় হওয়ার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের দেশকে খ্রিস্টচক্রের আগ্রাসী থাবা থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

টিভি, সিনেমা এবং ভি সি আর দেখার ক্ষতিসমূহ

মানুষের জীবন দু’ধরনের। নববী জীবন আর পাশবিক জীবন। প্রথমটার পরিণাম জান্নাত আর দ্বিতীয়টার পরিণাম জাহান্নাম। আধুনিক যুগের সিনেমা, টিভি এবং ভি সি আর ইসলাম ও মুসলমানদের চির শত্রু ইহুদী-খৃষ্টানদের আবিষ্কার, মুসলমানদেরকে পাশবিক জীবনে উদ্বুদ্ধ করার এক অত্যাধুনিক যন্ত্র। মুসলমানদেরকে তাদের, কৃষ্টি-কালচার, তাহযীব-তামাদ্দুন, শিক্ষা-দীক্ষা, সমাজ, নামায, অর্থ, চরিত্র এবং মানবতা থেকে দূরে সরিয়ে বিজাতিদের কৃষ্টি-কালচারে অভ্যস্ত করত: তাদেরকে গোলাম বানানোর এক সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্র। কিন্তু আফসোস! আজ মুসলমান চোখ থাকতেও অন্ধ। বিবেক থাকতেও তাদের এ ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করতে না পেরে শত্রুদের প্রেরিত বিষাক্ত সাপকে শুধুমাত্র বাহ্যিক রূপ এবং সৌন্দর্যের প্রতি বিস্মিত

হয়ে অবুঝ শিশুর মত সেটাকে স্বাগত জানিয়ে সযত্নে নিজের ঘরে স্থান করে দিচ্ছে। ফলে চারিত্রিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সকল দিক দিয়ে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তারা। যিনা-ব্যভিচার, অন্যায়-অত্যাচার, হত্যা-লুন্ঠন, রাহাজানি-ধর্ষণ ইত্যাকার বহুবিধ ফিতনা-ফাসাদ দিন দিন বেড়েই চলছে। এহেন পরিস্থিতিতে সমাজে জীবন যাপনই বড় মুশকিল এবং কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য নিম্নে সিনেমা, টি ভি এবং ভি সি আর দেখার দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষতিসমূহ সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হল, যাতে তার ভয়াবহ পরিণাম দেখে আমরা তা থেকে বেঁচে থাকতে পারি।

১। চোখের যিনা: সিনেমা টিভি দেখার সর্ব প্রধান উদ্দেশ্য হল মহিলাদের সোন্দর্য্য দ্বারা পুরুষদের মনোরঞ্জন করা। নারীদেরকে অশ্লীল আর নির্লজ্জভাবে উলঙ্গ বা অর্ধ উলঙ্গ করে উপস্থাপন করা হয়। যা দেখার কারণে চোখের যিনা হতে থাকে। তদ্রূপ পুরুষদের দেখে মহিলারাও চোখের যিনায় লিপ্ত হয়ে গুনাহগার হচ্ছে। হাদীসে এসেছে চোখও যিনা করে, আর তার যিনা হচ্ছে বেগানা মহিলাদেরকে দেখা। (বুখারী শরীফ হা: নং ৬২৪৩)

২। কানের যিনা: সিনেমা ও টিভির পর্দায় গান-বাজনা, কাওয়ালী, যুবতী মেয়েদের উলঙ্গ নাচ আর নায়িকাদের মনোহারিণী আওয়াজ। ঢোল-তবলা, সেতারা বেহালার মনোমুগ্ধকর ঝংকার। গানের সুরলহরী, প্রেম ভালবাসার অশ্লীল ডায়ালগ ইত্যাদি সব কানের যিনা। হাদীসে এসেছে কানও যিনা করে, আর যিনা হচ্ছে গায়রে মাহরামের আওয়াজ শ্রবণ করা। (বুখারী শরীফ হা: নং ৬২৪৩)

৩। অন্তরের যিনা: সিনেমা টি ভির পর্দায় উলঙ্গ, অর্ধ উলঙ্গ, টাইটফিট পোশাক বেগানা মহিলাদেরকে দর্শন করা আর গান-বাজনার বিভিন্ন আকর্ষণীয় আওয়াজে পুলকিত হওয়া, আগ্রহ-উদ্দীপনার সাথে অন্তরের সেদিকে আকৃষ্ট হওয়া, তার যৌনতা আর চিত্তাকর্ষকতা কল্পনা করে মনে মনে শিহরিত হওয়া এবং মজা অনুভব করা ইত্যাদি সবই অন্তরের যিনা। হাদীসে এসেছে অন্তরও যিনা করে, আর তার যিনা হচ্ছে কল্পনা আর কামভাব পূরণের আশা করা। (বুখারী শরীফ হা: নং ৬২৪৩)

৪। লজ্জা-শরমের বিলুপ্তি: পরিবারের সকল সদস্য; পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন সকলে একত্র বসে উলঙ্গ বা অর্ধ উলঙ্গ ছবি দেখতে থাকে। যার দ্বারা হায়া-শরম খতম হতে থাকে। অথচ লজ্জা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। (বুখারী শরীফ হা: নং ৯)

৫। অশ্লীলতা ও উলঙ্গপনার ব্যাপকতা: যে সকল লোকেরা সিনেমা ও টিভি দেখায় অভ্যস্ত হতে থাকে, চরিত্রগত দিক দিয়ে তাদের মন ও মস্তিষ্ক সব নিম্নস্তরে নেমে আসে। তাদের নির্লজ্জতা এবং অশ্লীলতার মাপকাঠি পরিবর্তন হয়ে যায়। গতকাল পর্যন্ত যে বিষয়টিকে সে উলঙ্গপনা আর অশ্লীলতা বলে জানতো আজ সেটাকে নিতান্তই সাধারণ বা এটাকেই মডার্ণ মনে করছে। অথচ অশ্লীলতা আল্লাহ তা‘আলার নিকট মারাত্মক ঘৃণিত। (সূরায়ে আনআম১৫১)

৬। অসৎ সঙ্গতা: সিনেমা ও টিভি দেখার কারণে অসৎ বন্ধু তথা সিগারেট ও মাদক দ্রব্যে অভ্যস্ত ব্যক্তি, মাতা-পিতার অবাধ্য, স্কুল-কলেজের অসৎ চরিত্রের ছাত্র-ছাত্রী এবং মেয়েদের সাথে চলাফেরা আরম্ভ করে এবং সৎ লোকদের সংশ্রব থেকে দূরে সরে থাকে। (সূরায়ে তাওবাঃ১১৯, সূরায়ে আনআমঃ৬৮)

৭। খারাপ অভ্যাসের জন্ম: ছেলে-মেয়ের সমকামিতা পুংমৈথুন, হস্তমৈথুন এবং ব্যভিচারের মত নানা অভিশপ্ত বদ অভ্যাসে লিপ্ত হয়ে নিজের জীবনকে নষ্ট করে দেয়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা সৎ লোকদের সংশ্রবে থাকার আদেশ করেছেন এবং কুরআন হাদীসে সকল হারাম কাজের প্রতি মারাত্মক ধমকী এসেছে। (সূরায়ে আনকাবূত: ২৮, তিরমিযী হা: নং ১১৬৭, শামী: ২/৩৯৯)

৮। যৌন কামিতার শিক্ষা: প্রায় সকল চলচ্চিত্রের বিষয়ই থাকে অবৈধ প্রেম-প্রীতি, ভালবাসা, যৌন চাহিদা পূরণ করার নানা কৌশল শিক্ষা দেয়া। অথচ কুরআনের স্পষ্ট নিষেধ যে, তোমরা প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে কোন ভাবেই অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হইওনা এবং এগুলোর প্রচার করো না। (সূরায়ে আনআম: ১৫১, সূরায়ে নূর: ১৯)

৯। চরিত্রের অবনতি: চরিত্র বিনষ্টকারী কথা-বার্তা, অনর্থক কল্পকাহিনী, গীবত, মিথ্যা, পরশ্রীকাতরতা, ঠাট্টা-বিদ্রূপ, কুদৃষ্টি ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক অভ্যাস সৃষ্টি হয়ে মারাত্মকভাবে চরিত্রের অবনতি ঘটে। অথচ চরিত্র মানব জীবনে অতি মূল্যবান সম্পদ এবং হাশরের ময়দানে সবচেয়ে ওজনদার হবে তার উত্তম চরিত্র। (সূরায়ে হুজরাত:১১-১২, আবূ দাউদ হা: নং ৪৭৯৯)

১০। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা: চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, ব্যভিচার, ছিনতাই, হত্যা-লুন্ঠন, রাহাজানি-ধর্ষণ ইত্যাদি মারাত্মক অপরাধ বিভিন্ন পদ্ধতিতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভাবে সিনেমা টিভির পর্দায় দেখানো হয়। পরবর্তীতে দর্শকরা এগুলোকে সাধারণ মনে করতে করতে নিজেরাও এগুলোর সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। অথচ এগুলো সবই হারাম এবং কবীরাহ গুনাহ। (সূরায়ে মুমতাহিনা: ১২)

১১। পর্দাহীনতার ব্যাপকতা: বর্তমান সমাজের নারীরা চলচ্চিত্রের পর্দাহীনতা দেখে নিজেরাও পর্দাহীনতা শিখছে। নায়িকাদের অনুসরণে নিজেরা অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় রাস্তা-ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ ইসলামী শরী‘আতে মহিলাদের জন্য পর্দাবিধান পালন করা ফরয। এটা না থাকলে সংসারের সমস্ত শান্তিই বিনষ্ট হয়ে যায়। (সূরায়ে আহযাব: ৩৩,৫৯)

১২। অবৈধ বিবাহ: সিনেমা ও টিভি দেখার কারণে ধর্মীয় অনুভূতি অবশিষ্ট থাকে না। পরকালের চিন্তাও থাকে না। মাসআলা-মাসাইলের গুরুত্বও শেষ হয়ে যায়। এমনকি একজন মুসলিম ছেলে অমুসলিম মেয়েকে বিবাহ করতে অথবা মুসলিম মেয়ে অমুসলিম ছেলের সাথে বিবাহ বসতে কোন দ্বিধাবোধ করে না। বরং এটাকে উদারপন্থী সংস্কৃতি ও আধুনিকতা মনে করে। অথচ এ সূরতদ্বয়ের কোনটাতেই বিবাহ সহীহ হবে না। এর পরেও ঘর-সংসার করলে যিনা হবে এবং তাদের থেকে যে সন্তান হবে সবই হারামজাদা হবে। (সূরায়ে বাকারা: ২২১)

১৩। ফ্যাশন পূজা: সিনেমা টিভি দেখার কারণে পুরুষেরা দাঁড়ি মুন্ডানো, টাখনুর নীচে কাপড় পরা, টাইট পোশাক পরা আর মহিলারা মাথার চুল খাটো করা, চুলে বিভিন্ন কালার করা, নেল পালিশ, লিপস্টিক ইত্যাদি শরী‘আত বিবর্জিত ফ্যাশনে লিপ্ত হয়। অথচ এসব নাজায়িয। (সূরায়ে আ‘রাফ ২৫-২৬, মায়িদা:৬, বুখারী হা: নং ৬৮৯২,৫৭৯৫, শামী:৬/৪০৭)

১৪। স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষতি: সিনেমা টিভি দেখার কারণে যুবক ছেলে মেয়েরা ধীরে ধীরে হৃদকম্পন, ক্যান্সার, ব্লাড প্রেশার, স্বপ্নদোষ, দুর্বলতা ও শরীরের ব্যথাসহ বহুরোগে আক্রান্ত হয়। অথচ স্বাস্থ্যের হেফাযত করাকে আল্লাহ তা‘আলা জরুরী করেছেন। এর ব্যতিক্রম করলে এগুলোর ব্যাপারে আল্লাহর আদালতে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। (তিরমিযী হা: নং ২৪১৬)

১৫। চোখের ক্ষতি: চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে এ কথাটি পরীক্ষিত যে, যত অধিক পরিমাণ সিনেমা ও টিভি দেখা হবে তত দ্রুত চক্ষু খারাপ হয়ে যাবে এবং দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে থাকবে। (সাঈদ মুহাম্মদ লিখিত সিনেমা টিভি দেখার ভয়াবহ পরিণতি: ৬১)

১৬। সিনেমা ও টিভি দেখা একটি আত্মার ব্যাধি: যখন কোন ব্যক্তির সিনেমা ও টিভি দেখার অভ্যাস মাত্রাতীত হয়ে যায় এবং সেটা ব্যতীত জীবন চলা কঠিন হয়ে পড়ে তখন সে হয়ে যায় একজন আত্মিক রোগী। তখন ঐ ব্যক্তির কাছে চিত্র জগতের প্রত্যেকটি বিষয় খুব ভাল লাগে। সিনেমা ও টিভি দর্শন তার সবচেয়ে প্রিয় কাজ হয়ে যায়। এ মারাত্মক ক্ষতির কারণে এ লোক ধর্মের কোন কাজ পছন্দই করতে পারে না। দুনিয়ার কাজের জন্যও সে নিষ্কর্মা। আর হারামকে মনে প্রাণে ভালবাসার কারণে তার ঈমান যে কোন মুহূর্তে চলে যেতে পারে। (সাঈদ মুহাম্মদ লিখিত সিনেমা টিভি দেখার ভয়াবহ পরিণতি: ৬১)

১৭। আল্লাহ ও রাসূলের অসন্তুষ্টি: আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূল ও দীনদার লোকদের মুহাব্বাত ও শ্রেষ্ঠত্ববোধ (যা তার জন্য জরুরী) পরিবর্তে অভিশপ্ত নায়ক নায়িকাদের মুহাব্বাত ও শ্রেষ্ঠত্ব অন্তরে পয়দা হয়। যার ফলে তাদের মুহাব্বাতে দুনিয়াতে অনেক সময় আত্মহত্যার মত মহাপাপ করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। আখিরাতে তাদের সাথী হয়ে জাহান্নামী হওয়ার আশংকা থাকে, যদি সে তাওবা না করে নেয়। (সূরায়ে আনফাল:৪৬)

১৮। পিতা-মাতার অবাধ্যতা: শিশুরা পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে যায়। যে সকল শিশু অনবরত সিনেমা ও টিভি দেখতে থাকে তারা আস্তে আস্তে পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে যায়। বরং কতক সময় তাদের সাথে অশ্লীল কথা-বার্তা বলে ফেলে এবং অসামাজিক আচরণ করে বসে। সিনেমা দেখা ও সিডি ক্রয় করার জন্য টাকা পয়সার প্রয়োজন হয়। যদি পিতা-মাতা পয়সা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তবে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। এমনকি চুরি-ডাকাতিও শুরু করে, আবার কখনো মায়ের উপর হামলা করে বসে। অথচ পিতা-মাতার বাধ্য হওয়া এবং তাদের কথামত চলা সন্তানদের জন্য ওয়াজিব। (সূরায়ে বনী ইসরাইল:২৩-২৪)

১৯। পড়া-লেখার বিঘ্ন সৃষ্টি: এগুলোর আসক্তির কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া-লেখার দারুণ ব্যাঘাত ঘটে এবং অনেক ক্ষেত্রে পড়া-লেখাই নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে পড়া-লেখা, কাজ-কর্ম সবকিছু উপেক্ষা করে সিনেমা টিভি দেখে দীন-দুনিয়া বরবাদ করে দেয়। অনেক সময় এ কারণে পরীক্ষায় ফেল করে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

২০। নামায বিনষ্ট হয়: টিভি দেখতে গিয়ে বেনামাযীর কথা তো বাদই, নামাযী লোকদেরও নামায ছুটে যায় অথবা কমপক্ষে জামা‘আত ছুটে যায়। অথচ নামায আল্লাহ তা‘আলার গুরুত্বপূর্ণ বিধান। যা তিনি বান্দার উপর ওয়াক্তমত ফরয করেছেন এবং তার জন্য জামা‘আতকে করেছেন অতীব জরুরী এবং ওয়াজিব। (সূরায়ে নিসা: ১০৩, বাকারা:৪৩)

২১। টাকা পয়সার অপব্যয়: সিনেমা ও টিভি সকল মন্দ ও অশ্লীল কর্ম-কাণ্ড প্রশিক্ষণ দেয়ার এক ট্রেনিং স্কুল। অতএব তা দেখা অবৈধ ও হারাম। সুতরাং এ হারাম কাজে টাকা-পয়সা ব্যয় করা অপব্যয়। আর অপব্যয়কারীকে কুরআনে শয়তানের ভাই বলা হয়েছে। (সূরায়ে বনী ইসরাঈল:২৭)

২২। সময়ের অপচয়: এ অবৈধ এবং হারাম কাজে টাকা-পয়সা খরচ করা যেমন অপব্যয় তেমন তার জন্য মূল্যবান হায়াত থেকে মূল্যবান সময় দেয়া সময় অপচয় করারই নামান্তর। অথচ এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করবেন। (তিরমিযী হা: নং ২৪১৬ )

২৩। হারাম কাজের প্রশিক্ষণ গ্রহণ: সিনেমা এবং টিভি দেখলে পর্দাহীনতা, মহিলা-পুরুষের স্বাধীনভাবে মেলা-মেশা, অবৈধ প্রেম ও ভালবাসা, ব্যভিচার, মদ্য পান, ফ্যাশন পূজা, চুরি, ডাকাতি, হত্যা, ধোঁকাবাজি ইত্যাদি হারাম ও অবৈধ কর্ম-কাণ্ডের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হয়। এজন্য বর্তমানে টিভির কারণে ঘরে ঘরে চোর-ডাকাত, হাইজ্যাকার, ছিনতাইকারী সৃষ্টি হচ্ছে এবং সরকারের সন্ত্রাস বিরোধী সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। (সাঈদ মুহাম্মদ লিখিত সিনেমা টিভি দেখার ভয়াবহ পরিণতি: ৬১)

২৪। বিপদ ও মুসীবতের কারণ: সিনেমা টিভির কারণে বহু কবীরাহ গুনাহ ব্যাপক হয়। আর হাদীসে এসেছে: যখন গুনাহ ব্যাপক হয় তখন আল্লাহ তা‘আলার আযাব ও শাস্তিও ব্যাপকভাবে হয়। (মাজমাউয যাওয়ায়িদ:৪/২৬৮)

২৫। সর্বোপরি সিনেমা টিভি দেখার মধ্যে কমপক্ষে ২১টি হারাম কাজ পাওয়া যায়। সুতরাং এতগুলো হারাম কাজ পাওয়া যাওয়ার পরেও সেটা দেখা মানে নিজের মূল্যবান হায়াতকে ধ্বংস করা ও আখিরাতকে বরবাদ করা।

সারকথা: টিভি, ভিসিআর এবং সিনেমার দুনিয়াবী এবং আখিরাতী বহুবিধ ক্ষতি এবং অনেক হারামের সমষ্টি ও কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় সেখানে মন্দ ছাড়া ভাল কোন দিকই নেই। সেখান থেকে কোন ভাল ফলাফলের আশা করা মানে ম্যানহোল থেকে স্বচ্ছ পানি তালাশ করা। সুতরাং সেখানে অনৈসলামিক প্রোগাম করা এবং দেখা যেমন নাজায়িয তদ্রূপ ইসলামিক প্রোগ্রাম করা এবং দেখাও জায়িয এ কথা ঠিক নয়। বরং সে ক্ষেত্রে গুমরাহীর আশংকা আছে। বর্তমান সমাজে এর অনেক প্রমাণ রয়েছে। হক্বানী উলামায়ে কেরাম এ ধরনের আলেমদের থেকে নিজের দীন, ঈমান রক্ষার খাতিরে দূরে থাকার উপদেশ দিয়ে থাকেন।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে আমাদের ছেলে মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও সকল মুসলমানকে চলমান এ ফিতনা থেকে বেঁচে থেকে সঠিক পন্থায় আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহে সচেষ্ট হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।

শরীআতের দৃষ্টিতে পুরুষের জন্য টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করা হারাম

পুরুষদের জন্য টাখনু (পায়ের গিরা)-র নীচে জামা, পায়জামা, প্যান্ট, লুঙ্গি ইত্যাদি কাপড় পরা সর্বাবস্থায় (নামায কিংবা নামাযের বাইরে) হারাম। এ সম্পর্কে বহু হাদীস শরীফে কঠিন শাস্তির ধমকি বর্ণিত হয়েছ। তন্মধ্যে, হযরত আবূ হুরাইরাহ রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন “লুঙ্গি বা কাপড়ের যে অংশটুকু টাখনুর নীচে থাকবে তা জাহান্নামে যাবে”। অর্থাৎ, পরিধানকারী এই অপরাধে জাহান্নামী সাব্যস্ত হবে। (বুখারী শরীফ হা: নং ৫৮৮৭)

হযরত আবু হুরাইরাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন “আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তির প্রতি (রহমতের) দৃষ্টিতে তাকাবেন না, যে লুঙ্গি, কাপড় ইত্যাদি অহংকারবশতঃ টাখনুর নীচে পরিধান করে।” (বুখারী ২:৮৬১-৮৬৩, আবু দাউদ শরীফ ২:৫৬৬, ইবনে মাজাহ শরীফ ২৫৫)

উল্লেখ্য পুরুষের জন্য টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করাটাই অহংকার এর আলামত, চাই তার অন্তরে যাই থাকুক সুতরাং এ কথা বলা অনর্থক যে আমি টাখনুর নীচে কাপড় পরলেও আমার অন্তরে কোন অহংকার নেই। এটা সেই ভিত্তিহীন দাবীর অনুরূপ, যে আমি নামায না পড়লেও আমার ঈমান ঠিক আছে অথচ হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল সে কুফুরী কাজ করল। (মুসলিম শরীফ হা: নং ৮২, আবূ দাউদ শরীফ হা: নং ৪৬৭৮)

টাখনুর নীচে সাধারণত: অহংকারী ব্যক্তিরা পোশাক পরিধান করে থাকে। এ হিসাবে কিছু সংখ্যক হাদীসে অহংকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, অহংকার ব্যতীত টাখনুর নীচে কাপড় পরা যাবে। এ ব্যাপারে অনেক মানুষ ভুলের মধ্যে আছে। টাখনুর নীচে কাপড় পড়লে তার অন্তরে যাই থাকুক এর দ্বারা অহংকার প্রকাশ পায় তাই সর্ব অবস্থায় পুরুষদের জন্য টাখনুর নীচে একমাত্র মোজা ব্যতীত অন্য কোন পোশাক পরা হারাম।

হযরত আবু সাঈদ রাযি. বর্ণনা করেন আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: মুমিনের কাপড় নিসফে সাক (অর্থাৎ, হাঁটু ও টাখনুর মধ্যবর্তী স্থান) পর্যন্ত, তবে নিসফে সাকের নীচে টাখনুর উপর পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরায় কোন অপরাধ নেই। (আবু দাউদ শরীফ হা: নং ৪০৯৩, ইবনে মাজাহ শরীফ হা: নং ৩৫৭৩)

তাছাড়া সাহাবায়ে কিরাম রাযি. থেকেও নিসফে সাকের নীচে টাখনুর উপর পর্যন্ত কাপড় পরিধান করা প্রমাণিত আছে। (বুখারী শরীফ হা: নং ৪৪২, মুসলিম শরীফ হা: নং ৪৩১)

সুতরাং, নিসফে সাক পর্যন্ত কাপড় পরিধান করা সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং টাখনুর উপর পর্যন্ত পরিধান করা জায়েযের সর্বশেষ সীমা, তবে এ অবস্থায় খুবই সর্তক থাকতে হবে যাতে সামান্য অসাবধানতার কারণে কাপড় টাখনুর নীচে ঝুলে না যায়। প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব যে মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিধানের উপর কায়েম থাকা এবং শরী‘আতের সীমা রেখা কোন অবস্থায় লঙ্ঘন না করা।

বি.দ্র: টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে প্যান্ট-পায়জামা ইত্যাদি পরা বিধর্মীদের শিক্ষা ও তাদের কৃষ্টি-কালচারের অন্তর্গত। এই ধরণের পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিধান করলে, গায়রে কাওমের অনুসরণ হয়। যার দ্বারা আমাদের দীনি চেতনার অভাব প্রকাশ পায়। তাই মুসলমানদের এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা অতীব জরুরী। (ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪:১২২, ইমদাদুল আহকাম ২:১৭৯, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ২:১৪০, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৭:২৮৪-২৮৮, তাক’মিলায়ে ফাতহুল মুলহিম ৪:১২৩)