www.darsemansoor.org এখন www.darsemansoor.comপরিবর্তিত হয়েছে।

হযরতওয়ালা দা.বা. কর্তৃক সংকলিত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

হযরতওয়ালা দা.বা. এর কিতাবুল হজ্জ কিতাবের App  play store থেকে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে প্রকাশিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার পেতে ক্লিক করুন

www.darsemansoor.org এখন www.darsemansoor.com

 

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরাতুল ফাতিহায় বান্দাদেরকে তাঁর কাছে সরলপথের তাওফীক প্রার্থনা করার শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু সরলপথের ব্যাখ্যায় তিনি নির্দিষ্ট কোনো আমল বা কর্মপন্থার উল্লেখ করেননি। বরং তার অনুগ্রহপ্রাপ্ত বান্দাদের কর্মপন্থাকে সরল পথ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর অন্যত্র নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককার বান্দাদেরকে তাঁর অনুগ্রহপ্রাপ্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সরলপথের ব্যাখ্যায় কর্মপন্থার পরিবর্তে ব্যক্তিবর্গের উল্লেখ, আর অনুগ্রহপ্রাপ্তদের তালিকায় নবীদের সাথে নেককার লোকদের অর্ন্তভুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর দ্বারা মূলত: নবীর অবর্তমানে উম্মাহর জন্য কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণের সঠিক পন্থা বাতলে দেয়া হয়েছে। তারা  কুরআন-সুন্নাহর বিধি-নিষেধের ওপর প্রাজ্ঞ-নেককার ব্যক্তির আমল ও কর্মপন্থা মোতাবেক আমল করবে; চাই বিধানটি স্পষ্ট হোক বা সূক্ষ্ম, দ্ব্যর্থহীন হোক বা দ্ব্যার্থবোধক, সংক্ষিপ্ত হোক বা  বিস্তারিত। কারণ অনেক সময় কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট শব্দাবলী থেকেও ভুল অর্থ অনুধাবনের আশংকা থাকে। উদাহরণত:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ

لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ

‘হে ইমানদারগণ! নিজেদের ফিকির কর। যখন তোমরা ঠিক পথে চলবে তখন যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট তার কারণে তোমাদের কোনো ক্ষতি নেই।’-সূরা মায়িদা:১৪০ এ আয়াতটির কথাই ধরুন। হযরত আবূ বকর রাযি. বলেন,

يأيها الناس ، إنكم تقرؤن هذه الآية وتضعونها على غير مواضعها (عليكم أنفسكم لا يضركم من ضل إذا اهتديتم) قال عن خالد : وإنا سمعنا النبي صلى الله عليه وسلم يقول : (إن الناس إذا رأوا الظالم فلم يأخذوا على يديه أوشك أن يعمهم الله بعقاب(

‘হে লোক সকল! তোমরা এই আয়াতকে দলীল হিসাবে ভুল স্থানে পেশ করছো যে, শুধু নিজের ফিকির করলেই যথেষ্ট হবে, অপরাপর মানুষের হেদায়াতের ফিকির করতে হবে না,) অথচ আমি নবীজী صلى الله عليه وسلم  কে বলতে শুনেছি, যখন মানুষ কাউকে জুলুম করতে দেখবে কিন্তু তাকে প্রতিরোধের চেষ্টা করবে না তখন অতিসত্বর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ব্যাপকভাবে আযাবে লিপ্ত করবেন।’ (সুনানে আবূ দাউদ হা.৪৩৩৮)

তো দেখা যাচ্ছে, দীন পালনে ভুল-ভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকার জন্য  নেক ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের থেকে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক মর্ম জেনে নেয়া এবং এ দু‘টোর উপর আমলের ক্ষেত্রে তাদের আমলের অনুসরণ করা আল্লাহ তা‘আলারই নির্দেশ। এখন এটাকে কেউ ইত্তিবা আর অনুসরণ বলুক কিংবা তাকলীদ আর মাযহাব অনুসরণই বলুক।  কিন্তু এই সহজ ও সাধারণ বিষয়টিকে বর্তমানে ভুলভাবে উপস্থাপন করে উম্মাহকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দীনের সংক্ষিপ্ত, সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়ে ইমাম আবূ হানীফা রহ. ও তাঁর শিষ্যদের মতামত অনুসরণকে শিরক আর অনুসারীকে মুশরিক বলা হচ্ছে।  প্রশ্ন হল, বহু সাহাবায়ে  কেরামের স্নেহধন্য কূফা নগরীর ইলমী মসনদের মহান ইমাম ও তাঁর শিষ্যগণ কি কারো অনুসরণযোগ্য নয়? ছোট যদি দক্ষ ও প্রাজ্ঞ বড়র ব্যাখ্যা অনুযায়ী দীনের অনুসরণ করে  এটাকে শিরক বলা যায় কি? পাক-ভারত-বাংলায় তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত অন্য কোনো সময় রফয়ে ইয়াদাইন করে না এমন একজন সাধারণ মুসলমানকে তার ধর্ম, কিতাব ও নবী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে দেখুন, উত্তরে সে ইসলাম, কুরআন ও মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم  কে বাদ দিয়ে ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁর মাযহাবের নাম বলে কিনা ? যদি না বলে, তাহলে কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলা হয় যে, এরা কুরআন-হাদীস না মেনে আবূ হানীফাকে অনুসরণ করে ? হাঁ, তারা অবশ্যই ইমাম আবূ হানীফা রহ. ও তার শিষ্যদের অনুসরণ করে, তবে তা তাঁর ও তাঁর  শাগরেদদের কুরআন-সুন্নাহয় গভীর পাণ্ডিত্য ও তাকওয়া-তাহারাতের ভিত্তিতে তাদের সংকলিত ফিকহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ; যা তারা অর্জন করেছিলেন পর্যায়ক্রমে হাম্মাদ ইবনে আবী সুলাইমান, ইবরাহীম নাখয়ী, আলকামা ও আসওয়াদ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. এর মাধ্যমে নবীজী صلى الله عليه وسلم  এর নিকট থেকে। তাহলে দক্ষ ও যোগ্য মুজতাহিদের কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমা-কিয়াসের আলোকে আহরিত ফিকহ অনুসরণ করা আর নির্ভেজাল কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? ইমাম বুখারীকে রহ. দেখুন, বুখারী শরীফে তিনি প্রায় প্রতিটি হাদীসের শুরুতে তরজমাতুল বাব নামে তার আহরিত ফিকহ সন্নিবেশিত করেছেন। এ ব্যাপারে কারো কোনো আপত্তি নেই। তো ইমাম বুখারী রহ. (মৃত:২৫৬ হি.) এর ফিকহ যদি অনুসরণীয় হয়, তাহলে তার উস্তাদের উস্তাদ ইমাম আবূ হানীফা রহ. (জন্ম: ৮০ হি. মৃত:১৫০ হি.) এর ফিকহ কেন অনুসরণীয় হবে না? মাসআলা উদ্ভাবনে কিয়াস করেছেন বলে কি তার ফিকহ পরিত্যাজ্য হবে? কুরআন সুন্নাহয় কোনো সমস্যার সমাধান পাওয়া না গেলে কিয়াস করা তো শরী‘আতেরই নির্দেশ। হযরত মুআয রাযি. এর اجتهد برأى (কুরআন-সুন্নাহয় না পেলে আমি আমার রায় দ্বারা সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করব) কথাটি এর সুস্পষ্ট প্রমাণ। তা সত্ত্বেও সর্তকতা স্বরূপ ইমাম আযম রহ. কুরআন-সুন্নাহর পর সাহাবায়ে কেরামের ইজমা ও তাদের কর্মপন্থায় সমাধান খুঁজেছেন। এতেও পাওয়া না গেলে তখন তিনি কিয়াসের আশ্রয় নিয়েছেন। তা ছাড়া এ আমল তো তার একারও নয়; কিয়াস  তো  খোদ নবীজী صلى الله عليه وسلم , সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈনেরও আমল ছিল। প্রচার করা হয়, হানাফী মাযহাবে দুর্বল বর্ণনা সূত্রের হাদীসের উপর আমল করা হয়। দেখুন না, যঈফ হাদীস যদি একেবারেই পরিত্যাজ্য হবে তাহলে ইমাম বুখারী রহ. কেন যঈফ হাদীসের ভিত্তিতে তার সহীহ হাদীসের কিতাব ‘বিসমিল্লাহ’ দ্বারা শুরু করেছেন? শুধু ইমাম বুখারী রহ. এর জন্য যঈফ হাদীসের উপর আমল বৈধ, অন্য কারো জন্য নয় এর কী ভিত্তি আছে? হাদীস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একেক মুহাদ্দিসের একেক মানদণ্ড থাকে। ফলে একই হাদীস কারো কাছে সহীহ, কারো কাছে যঈফ হতে পারে। সে হিসেবে ইমাম আযম রহ. এর কি হাদীস যাচাইয়ের ভিন্ন কোনো মানদণ্ড থাকতে পারে না? এবং তার যাচাই অনুযায়ী কোনো হাদীস সহীহ হলেও তার পরবর্তী কোনো রাবীর দুর্বলতার কারণে তা কি যঈফ হতে পারে না? তো পরবর্তী রাবীর দুর্বলতার কারণে ইমাম আযমের যাচাইকৃত সহীহ হাদীসটি দুর্বল হয়ে পড়বে কি? কস্মিন কালেও নয়।

লেখা বড় করুন লেখা ছোট করুন